নিজেদের বাড়ি তৈরি করতে গিয়েই ফেঁসেছেন? পুরনিগমের নতুন নির্দেশে চরম অনিশ্চয়তায় ঘরবাড়ির মালিকরা!

ছোট জমিতে বাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখা কলকাতার বহু নাগরিক এখন চরম দুশ্চিন্তায়। কলকাতা পুরনিগমের (KMC) সাম্প্রতিক এক কড়া সিদ্ধান্তে হাজারো মানুষ এখন ‘কমপ্লিশন সার্টিফিকেট’ (CC) পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটে পড়েছেন। প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, মৌখিক নির্দেশ বা অফিস অর্ডার নয়, নির্মাণ হতে হবে একমাত্র গেজেট নোটিফিকেশনের নিয়ম মেনেই।

সমস্যার মূলে কী? কিছুদিন আগেই ছোট জমিতে নির্মাণ কাজের জন্য ছাড়ের নিয়ম শিথিল করে পুরনিগম। মৌখিক আশ্বাসে বহু মানুষ সেই অনুযায়ী নকশা তৈরি করে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন বা শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনার পর প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন পুরনিগমের সাফ কথা—অনুমোদনের জন্য একমাত্র মাপকাঠি হবে গেজেট নোটিফিকেশন।

কেন এই সংশয়? অফিস অর্ডারে বাড়ি ছাড়ের নিয়ম যতটা শিথিল ছিল, গেজেট নোটিফিকেশনে তা কিছুটা কঠোর। ফলে যারা ইতিমধ্যে অফিস অর্ডার মেনে বাড়ির কাজ এগিয়েছেন, তারা এখন সিসির জন্য আবেদন করতে গিয়ে দেখছেন, গেজেট নোটিফিকেশনের নিয়মের সঙ্গে তাদের বাড়ির নকশা মিলছে না।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা: একাধিক লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিল্ডিং সার্ভেয়ার (LBS) উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমরা অফিস অর্ডারের ওপর ভিত্তি করেই নকশা দিয়েছিলাম। এখন যদি গেজেট নোটিফিকেশনকে বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে অগণিত বাড়িতে সিসি পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।” তাদের মতে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে:

  • সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হবেন।

  • বেআইনি নির্মাণের প্রবণতা ফের বেড়ে যেতে পারে।

  • পুরনিগমের রাজস্ব আদায়ের পথেও বাধা সৃষ্টি হবে।

এখন করণীয় কী? ইতিমধ্যে কলকাতা পুরনিগমের কাছে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে পুরনিগম কর্তৃপক্ষের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা। যারা ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ করে বাড়ি তৈরি করেছেন, আইনি বেড়াজালে আটকে তাদের সিসি পাওয়ার ভাগ্য এখন পুর প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপরই ঝুলে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *