গ্রেটার শিলিগুড়ির স্বপ্নপূরণ? শিলিগুড়িকে জেলা ঘোষণার তোড়জোড়, কোন এলাকা থাকবে অন্তর্ভুক্ত?

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিলিগুড়িকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে রাজ্য প্রশাসন এখন এই নতুন জেলা গঠনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির কাজ চালাচ্ছে।
নতুন জেলার পরিধি: প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রস্তাবিত নতুন শিলিগুড়ি জেলার মানচিত্র বেশ বড় হতে চলেছে। এর মধ্যে যুক্ত করা হতে পারে জলপাইগুড়ি জেলার ডাবগ্রাম ও ফুলবাড়ির দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার একাংশ। জেলাশাসকের দফতর ও জেলা আদালত কোথায় হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে জোর আলোচনা চলছে। বর্তমানে থাকা শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ ভবনটিকেই জেলাশাসকের প্রধান কার্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
কেন এই উদ্যোগ? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) করিডোরে প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে বাগডোগরা ও শিবমন্দির অঞ্চলকে আলাদা পুরসভা হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাবও রয়েছে।
বিধায়কদের জোরালো দাবি: সম্প্রতি দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়করা পৃথক জেলা গঠনের বিষয়ে সর্বসম্মত সওয়াল করেছেন। বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাটিগাড়া, শিবমন্দির, আঠারোখাই এবং বাগডোগরা অঞ্চলকে নতুন পুরসভার অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে ফাঁসিদেওয়া, খড়িবাড়ি ও নকশালবাড়ি থানাকে যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি: শিলিগুড়িকে জেলা ঘোষণার খবরে শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি খুশি ব্যবসায়ী মহলও। ‘ফোসিন’ (FOSIN)-এর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, শিলিগুড়ি জেলা হলে ব্যবসায়িক উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে। নাগরিক মঞ্চও দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণের পথে এগিয়ে চলায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ: প্রশাসনিক বৈঠকে শিলিগুড়ির পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংসদ রাজু বিস্তা। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে শয্যা সংকট মেটাতে ১০০টি অতিরিক্ত বেড বাড়ানো এবং হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্র নির্মূল করার ব্যাপারে তিনি কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
পাহাড়ের স্বশাসনের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই সম্ভবত শিলিগুড়িকে নতুন জেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। এখন শিলিগুড়িবাসীর দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন কবে বাস্তবে রূপ নেয়, সেটাই দেখার অপেক্ষা।