কাগজের দিন শেষ? পলিমারের নোট নিয়ে বড় আপডেট দিল আরবিআই, বদলে যাবে ভারতীয় মুদ্রা

খুব শীঘ্রই হয়তো আমাদের হাতবদল হতে চলেছে পলিমারের তৈরি নতুন নোট! দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আরও মজবুত করতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) বড়সড় উদ্যোগ নিতে চলেছে। প্রচলিত কাগজের নোটের বদলে এবার পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর তোড়জোড় শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন এই পলিমার নোট? কী এর সুবিধা?
কাগজের নোটের তুলনায় পলিমারের নোটের স্থায়িত্ব অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার নিরিখে এই সিদ্ধান্তের কারণগুলো হলো:
-
অত্যন্ত টেকসই: কাগজের নোটের তুলনায় এগুলি আড়াই থেকে চার গুণ বেশি সময় টিকে থাকে।
-
জল ও ধুলোর ভয় নেই: জল, আর্দ্রতা বা ময়লায় সহজে এই নোট নষ্ট হয় না।
-
নিরাপত্তা: পলিমার নোটে উন্নত নিরাপত্তা ফিচার ব্যবহার করা সম্ভব, ফলে নকল নোট তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।
-
দীর্ঘস্থায়ী: দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পরেও এগুলির গুণমান এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে।
বিশ্বের কোন কোন দেশে চলে এই নোট?
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশে ইতিমধ্যেই পলিমার নোটের ব্যবহার সফলভাবে চলছে। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে ভারত।
আরবিআই-এর বর্তমান পরিকল্পনা:
রিজার্ভ ব্যাংক এখন বিশেষ পলিমার সাবস্ট্রেট (প্লাস্টিকের শিট) সরবরাহের জন্য বিশ্বজুড়ে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আগ্রহপত্র (EOI) আহ্বান করেছে। তবে মনে রাখবেন:
-
প্রক্রিয়াটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
-
কোন মূল্যের নোট আগে আসবে বা কবে আসবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
-
বর্তমান কাগজের নোট রাতারাতি তুলে নেওয়া হবে না। সম্ভবত শুরুতে সীমিত আকারে পলিমার নোট ছাড়া হবে এবং ধীরে ধীরে দু’ধরনের নোটই পাশাপাশি চলবে।
ভারতের অতীত অভিজ্ঞতা
উল্লেখ্য, ভারত ২০১৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টাকার পলিমার নোট বাজারে এনেছিল। যদিও সে সময় প্রকল্পটি সেভাবে এগোয়নি, কিন্তু এবার আরবিআই অনেক বেশি সক্রিয়। সব ঠিকঠাক থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের মানিব্যাগে আসতে চলেছে অত্যন্ত নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী এই নতুন মুদ্রা।