ডোনেশনের আড়ালে ঘুষের ছড়াছড়ি: তৃণমূল কাউন্সিলর থেকে পুলিশ—সবাই কি জড়িত সোনা পাপ্পুর চক্রে?

শহরজুড়ে জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণের জাল বিস্তার করতে প্রশাসনিক স্তরে রীতিমতো ‘ঘুষের সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। সম্প্রতি এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আদালতে যে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে উঠে এসেছে চরম চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

চার্জশিটে কী দাবি করেছে ইডি? তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বেআইনি নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সোনা পাপ্পু কোটি কোটি টাকা ‘ডোনেশন’ বা অনুদানের আড়ালে ঘুষ হিসেবে বিলি করতেন। ইডির হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৯.৪৯ কোটি টাকা তিনি বিভিন্ন খাতে খরচ করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ৩.৪১ কোটি টাকা সরাসরি প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়ার জন্য ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

ঘুষের টাকা কোথায় কোথায় পৌঁছেছিল? ইডি-র তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সুবিধাভোগীদের তালিকায় রয়েছে:

  • পুলিশ প্রশাসন: কসবা থানা সহ দক্ষিণ কলকাতার একাধিক থানার আধিকারিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই ‘ডোনেশন’-এর টাকা পৌঁছেছে।

  • কলকাতা পুরনিগম: পুরনিগমের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের হাতেও পৌঁছেছে এই অবৈধ টাকা।

  • রাজনৈতিক প্রতিনিধি: এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে ১.১১ কোটি টাকার বেশি অর্থ দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

  • ক্লাব ও অন্যান্য: দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন নামী-অনামী ক্লাবে প্রভাব বজায় রাখতে প্রায় ৫৫.৯১ লক্ষ টাকা খরচ করেছে এই চক্র।

প্রভাব বিস্তারের সুপরিকল্পিত ছক: তদন্তকারীদের দাবি, জমি দখল বা বেআইনি বহুতল তৈরির ক্ষেত্রে যাতে কোনো আইনি বাধা না আসে বা পুলিশি তদন্ত মুখ থুবড়ে পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই এই টাকা খরচ করা হতো। সোনা পাপ্পুর লেনদেনের প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত। নির্মাণ থেকে অর্জিত কালো টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুরিয়ে নগদে রূপান্তর করে তা প্রভাবশালীদের তুষ্ট করতে ব্যবহৃত হতো।

ইডি-র এই চার্জশিট এখন কলকাতা তথা রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে বড়সড় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সোনা পাপ্পুর এই বেআইনি নির্মাণ চক্রের শিকড় কতটা গভীরে এবং এর সাথে আর কারা জড়িত, তা নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *