বন্ধুর ডাকে বেরিয়েই নিখোঁজ! ৪ দিন পর সীমান্ত লাগোয়া মাঠ থেকে মিলল যুবকের বস্তাবন্দি দেহ

বন্ধুর ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, আর ফেরা হলো না! দীর্ঘ চার দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এক মাঠ থেকে উদ্ধার হলো অরূপ কর্মকার নামে এক যুবকের বস্তাবন্দি মৃতদেহ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল?
নিহত অরূপ কর্মকার কৃষ্ণগঞ্জের শাকদহ গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে অরূপকে ফোন করে ডাকে তার বন্ধুরা। সেই ফোনের সূত্র ধরেই সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অরূপের কোনো হদিস না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কৃষ্ণগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়।
কিভাবে উদ্ধার দেহ?
সোমবার এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায় যখন স্থানীয় কৃষকরা স্বর্ণখালী-শ্যামনগর গ্রামের একটি মাঠে মহেশচন্দ্রপুর ঘাটের রাস্তার ধারে একটি বস্তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। কৃষকদের সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে। কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তার মুখ খুলতেই উদ্ধার হয় অরূপের পচাগলা দেহ। বস্তাবন্দি অবস্থায় দেহ উদ্ধারের এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ
খুনের খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দ্রুত তদন্তে নেমে তিনজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যক্তিগত শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো পুরনো বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনও খুনের মোটিভ সম্পর্কে মুখ খোলেনি পুলিশ।
পুলিশের সন্ধানে কী?
তদন্তকারীরা এখন নিহত যুবকের শেষ কয়েক ঘণ্টার গতিবিধি খতিয়ে দেখছেন। বন্ধুর ফোনের পর অরূপ কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং সেই রাতে কারা কারা তাঁর সঙ্গে ছিল, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো অরূপের মোবাইল ফোনটি, যা এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কারা জড়িত এবং ঘটনার নেপথ্যের আসল রহস্য দ্রুতই সামনে আনা সম্ভব হবে।