পঞ্চায়েত ভোটে ‘ডাকাতি’ হয়েছে! টিকিট বিক্রি নিয়ে বিস্ফোরক বিধায়ক প্রসূন, তদন্তের হুঁশিয়ারি

ভোটের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ যেন থামছে না। এবার ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট বিক্রির অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন চাঁচলের বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, নবজোয়ার কর্মসূচির আড়ালে আইপ্যাক ও ক্যামাক স্ট্রিটের যোগসাজসেই চলেছে টিকিট ও পদ বিক্রির ‘ডাকাতি’।

‘ব্যবসার জায়গা হয়ে গিয়েছিল পঞ্চায়েত ভোট’:
রবিবার মালদহের চাঁচলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের এক প্রস্তুতি সভায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট ছিল একদল নেতার কাছে ব্যবসার জায়গা। টিকিট থেকে শুরু করে পঞ্চায়েতের পদ—সবই বিক্রি হয়েছে টাকার বিনিময়ে। এটা চুরি নয়, সরাসরি ডাকাতি হয়েছে।” বিধায়কের আরও দাবি, যে সমস্ত দলের কর্মীর টাকা দিয়ে টিকিট কেনার ক্ষমতা ছিল না, তাঁরা ব্রাত্য হয়ে পড়েন। সেই তিক্ততা আজও দলের অন্দরে রয়ে গেছে।

তদন্ত কমিটির ঘোষণা:
অভিযোগ তুলেই থেমে থাকেননি চাঁচলের বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই দুর্নীতির তদন্ত হবে। প্রসূন বলেন, “আমাদের দল খুব শীঘ্রই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। ২১ জুলাইয়ের পর বিষয়টি নিয়ে দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। আইনজীবী ও বিধায়কদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবে দলের রাজ্য নেতৃত্বকে।” স্বচ্ছতার লক্ষ্যে আগামী পঞ্চায়েত ভোটে কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
তৃণমূলের অন্দরে এই নতুন ‘তদন্ত কমিটি’-র ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যদিকে দলের ভেতরের এই বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য। পর্যবেক্ষকদের মতে, একুশে জুলাইয়ের আগে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আরও জটিল করে তুলল।

তদন্ত কমিটিতে শেষ পর্যন্ত কারা থাকেন এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে দল কোন পথে হাঁটে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *