“রাজ্যে বিজেপি জিতেছে, তাই মিষ্টিমুখ করালাম!”-হাওড়ায় দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা অমিত শাহের

রাজ্যে রাজনৈতিক জয়ের আবহে শিল্পায়নের জয়গান গাইলেন কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাওড়ার সাঁকরাইলে আমূলের নতুন অত্যাধুনিক দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তিনি। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা কেবল রাজ্যের গণ্ডি পেরোবে না, বরং উৎপাদন ক্ষমতার নিরিখে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দই উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে দাবি আমূল কর্তৃপক্ষের।

মিষ্টি দই ও রাজনীতির মিশেল অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, “রাজ্যে বিজেপি জয়লাভ করেছে, তাই মিষ্টি দই দিয়ে মিষ্টিমুখ করালাম।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। তবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এদিন তিনি পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলার এই দই কেবল রাজ্যের গর্ব নয়, এটি দেশের খাদ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। নতুন এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে রাজ্যের দই দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বড় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্বপ্ন কয়েকশো কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। অমিত শাহের মতে, সমবায় মডেলের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এতে সরাসরি কৃষকদের থেকে দুধ সংগ্রহ করে আধুনিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দুগ্ধচাষিদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী? অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পকে রাজ্যের কৃষি ও দুগ্ধভিত্তিক অর্থনীতির জন্য এক ‘নয়া অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই কারখানা হাজার হাজার দুগ্ধচাষির ভাগ্য বদলে দেবে। পরিবহণ, প্যাকেজিং এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।” পাশাপাশি, ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গেও অনুরূপ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে, আমূল কর্তৃপক্ষকে রাজ্যে আইসক্রিম উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শিল্প মহলের মতে, সাঁকরাইলের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের সংগঠিত দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মানচিত্রে এক আমূল পরিবর্তন আসবে। একদিকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দই জাতীয় বাজারে ব্র্যান্ড ভ্যালু পাবে, অন্যদিকে কৃষকদের জন্য তৈরি হবে আয়ের এক স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *