তৃণমূলের অন্দরে মহাবিদ্রোহ! একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগ, একঘরে মমতা

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে যেন ভূমিকম্প চলছে। একের পর এক নেতা, বিধায়ক ও সাংসদের দলত্যাগে ক্রমশ কোণঠাসা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় দ্বন্দ্ব ও সই জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে ‘কালীঘাট তৃণমূল’, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী ব্লক’।

হেভিওয়েটদের বিদ্রোহ:
ফিরহাদ হাকিম থেকে মদন মিত্র—তৃণমূলের একসময়ের নির্ভরযোগ্য সৈনিকরা এখন প্রকাশ্যে মমতা শিবিরের বিরোধিতা করছেন। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের শিবির বদল উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে এক বড় প্রভাব ফেলেছে। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কোয়েল মল্লিক এবং হাত ছেড়েছেন প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্ত। এছাড়া রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ও ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দিতে চলেছেন বলে খবর।

বিজেপির দিকে কি ঝুকছে পাল্লা?
কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার পরই জল্পনা তুঙ্গে। সূত্রের খবর, সাংসদ পদ ছাড়ার পর কোয়েল সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কোয়েল মল্লিক হয়তো খুব শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দেবেন এবং পুনরায় রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তোপ দেগে বলেন, “প্রকৃতির নিয়ম মেনেই তৃণমূল নির্মূল হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আর এই দলটিকে নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই।”

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য জল্পনায় আরও ঘি ঢেলেছে। তিনি বলেন, “কোয়েল মল্লিকের পরিকল্পনা অনেক আগেই ছিল। বিজেপির শক্তি রাজ্যসভায় আরও বাড়ছে।”

ভবিষ্যৎ কী?
রাজনীতির এই ‘কালারফুল’ খেলায় মদন মিত্র বা অন্যান্য বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত কোথায় থিতু হবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতিতে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দলত্যাগ ও শিবির বদলের এই আবহে বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *