বিনিয়োগ বনাম ফৌজদারি মামলা! মার্কিন বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কি স্বচ্ছতা? স্পষ্ট করলেন আদানি

মার্কিন আদালতে এক গুরুত্বপূর্ণ হলফনামা পেশ করে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনে কোনো ধরনের গোপন চুক্তি বা আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক নেই। মার্কিন বিচার বিভাগের মামলা খারিজের সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো গোপন সমঝোতা থাকার সম্ভাবনাকে তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

হলফনামায় কী জানিয়েছেন আদানি?
নিউ ইয়র্কের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক নিকোলাস গারাউফিসের নির্দেশ অনুযায়ী, গৌতম আদানি এই শপথপত্র জমা দেন। সেখানে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, মার্কিন বিচার বিভাগের মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন বোঝাপড়া বা সুবিধা প্রদানের বিষয় জড়িত নয়। ফৌজদারি অভিযোগ বাতিলের বিনিময়ে কোনো মূল্যবান জিনিস বা সুবিধা দেওয়ার চুক্তি বা প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞ। আদানির আইনি দল আদালতে সমস্ত সংশয় দূর করার জন্য এই বক্তব্য লিখিত আকারে পেশ করেছে।

বিনিয়োগ নিয়ে জল্পনার অবসান:
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আদানি গোষ্ঠীর ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়। গুঞ্জন উঠেছিল যে, এই বিপুল বিনিয়োগের কারণেই হয়তো মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে। এই অভিযোগের জবাবে গৌতম আদানি হলফনামায় উল্লেখ করেন, বিনিয়োগের পরিকল্পনাটি অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং ১৩ নভেম্বর তা প্রকাশ্যে আনা হয়—যা আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগের খবর সামনে আসার আগের ঘটনা। ফলে মামলা খারিজের সঙ্গে এই বিনিয়োগের কোনো সরাসরি যোগসূত্র নেই।

কেন মামলা থেকে সরছে মার্কিন বিচার বিভাগ?
মার্কিন অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ট্রেন্ট ম্যাককটার আদালতের কাছে স্পষ্ট করেছেন, মামলাটি আইনিভাবে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন ছিল। তাঁর যুক্তি:

কথিত অপরাধের বেশিরভাগ ঘটনা ভারতে ঘটেছে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে কোনো বেআইনি কাজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই।

অধিকাংশ সাক্ষী ও তথ্য-প্রমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থিত।

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে মার্কিন বিচার বিভাগ এখন ‘ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ (FCPA)-এর চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের তদন্তকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আদালতের অবস্থান:
বিচারক নিকোলাস গারাউফিস এখনও এই মামলা বাতিলের চূড়ান্ত রায় দেননি। বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অনৈতিক সমঝোতা হয়নি তা নিশ্চিত করতেই তিনি আদানিকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদানির হলফনামা এবং বিচার বিভাগের যুক্তি খতিয়ে দেখার পরই আদালত এই মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাবের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

ভারতের এই শীর্ষ শিল্পপতির আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এই হলফনামাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *