পুনের ‘লোহাগড়’ হত্যাকাণ্ড! খুনের তদন্তের মাঝেই সিয়ার বাবার মশলার ব্যবসায় ৮ লক্ষ টাকার ভেজাল বাজেয়াপ্ত!

পুনের লোহাগড় দুর্গে বাগদত্তা কেতন আগরওয়ালকে পরিকল্পিতভাবে খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শিরোনামে উঠে এল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের পরিবার। একদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের চাপের মাঝেই সিয়ার বাবার মালিকানাধীন নামী মশলা ও শুকনো ফলের দোকানে হানা দিল ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। অবৈধ গুদাম এবং ভেজাল সন্দেহে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

কী ঘটেছে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে?
পুনের মার্কেট ইয়ার্ড এলাকায় সিয়ার বাবা প্রবীণ গোয়েলের ‘মেসার্স বিজি গোয়েল অ্যান্ড কোম্পানি’-তে আচমকা তল্লাশি চালান ফুড সেফটি অফিসাররা। কর্তৃপক্ষের দাবি:

অবৈধ গুদাম: কোনো বৈধ ফুড লাইসেন্স ছাড়াই বিশাল এক গুদাম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

বিপুল পণ্য বাজেয়াপ্ত: প্রায় ৪,১৭২ কেজি সন্দেহজনক ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মূল্য ৮,১৪,৬৩০ টাকা।

ভেজালের সন্দেহ: বাজেয়াপ্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৮৫৬ কেজি হলুদ গুঁড়ো (যা ‘সন্ত’ ও ‘সাধু’ ব্র্যান্ড নামে বিক্রি হতো), ৫৩৮ কেজি তিল এবং ১৭৭৮ কেজি সয়াবিন বড়ি।
বর্তমানে দোকানটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নমুনার ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় প্রশাসন।

লোহাগড় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নির্মমতা
গত ১৮ জুন নিজের জন্মদিনে বাগদত্তা কেতন আগরওয়ালকে লোহাগড় দুর্গের ৪০০ ফুট গভীর খাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে খুনের অভিযোগ ওঠে সিয়া গোয়েল ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য— সিয়া ও চেতন নভেম্বরে কেতনের সঙ্গে হতে যাওয়া বিয়ে এড়াতেই এই ঠান্ডা মাথার খুনের পরিকল্পনা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া নিজে মাটিতে বসে সংকেত দিলে চেতন পেছন থেকে এসে কেতনকে ধাক্কা দেন। প্রথমে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালালেও ৫ দিনের মধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ ও স্ন্যাপচ্যাট চ্যাট ঘেঁটে পুলিশ এই চক্রান্ত ফাঁস করে।

পরিবারের করুণ আর্তি
ব্যবসা সিল হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত ভেঙে পড়েছেন সিয়ার বাবা প্রবীণ গোয়েল। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে যদি অপরাধী হয়, তবে আইন অনুযায়ী তাকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু দোষ করেছে মেয়ে, আর তার খেসারত দিচ্ছে আমাদের গোটা পরিবার ও ব্যবসা। আমরা চরম মানসিক অবসাদের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি।”

বর্তমানে সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী পুনের ইয়েরওয়াড়া সেন্ট্রাল জেলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। এই মামলার দ্রুত শুনানির জন্য রাজ্য সরকার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *