“অভিষেকের জন্যই জেলে গিয়েছি!” কারাবাসের দায় সরাসরি সাংসদের ওপর চাপালেন অনুব্রত মণ্ডল

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন কার্যত বিদ্রোহের আগুন। বুধবার বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণেই তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে। গরু পাচার মামলায় তিহাড় জেলে দীর্ঘ সময় কাটানো অনুব্রতর এই দাবিতে রীতিমতো তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সেই সুরেই সুর মিলিয়েছেন সম্প্রতি দলত্যাগ করা কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়ক মদন মিত্রও।

অনুব্রত-মদনের আক্রমণের নিশানায় অভিষেক
দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত হিসেবে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল কারাবাসের সম্পূর্ণ দায় চাপিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। একদিকে যখন দল ভাঙনের মুখে, ঠিক তখনই মদন মিত্রর মতো ঘনিষ্ঠ নেতাদের এমন বিদ্রোহ তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা। মদন মিত্রও অনুব্রতর এই দাবিকে সমর্থন করেছেন, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে দলের অন্দরে অভিষেক বিরোধী গোষ্ঠী ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।

মমতার কড়া জবাব: “অভিষেক তো আপনাদের আয়না”
দলের নেতাদের এমন বিদ্রোহে ভেঙে না পড়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীর সাফ কথা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে এই নেতাদের কাছে একপ্রকার ‘আয়না’। নিজেদের সমস্যা ঢাকতেই অভিষেককে ‘বাহানা’ হিসেবে ব্যবহার করছেন তাঁরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “অভিষেক বাঘের মতো লড়ছে। সে কোনো চাপে নতি স্বীকার করে না। আর যারা চলে যাচ্ছে, তাদের লজ্জা থাকা উচিত। অভিষেক আগামী ৫০ বছর রাজনীতি করবে।”

২১ জুলাইয়ের আগে অস্থির তৃণমূল
একদিকে মদন মিত্রের মতো নেতার শিবির বদল, অন্যদিকে অনুব্রত মণ্ডলের মতো নেতার প্রকাশ্যে বিদ্রোহ—২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের আগে তৃণমূলের এই দশা দলের অন্দরে চরম অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেককে আগলে রাখতে লড়াইয়ের ময়দানে নামলেও, এই নেতাদের বিদ্রোহ দলের ভাবমূর্তিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *