তৃণমূল ছেড়েছেন হেভিওয়েট নেতারা, বেইমানদের জন্য মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন মমতা!

বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে তৃণমূলের বিপর্যয় এবং একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগের ঘটনায় বাংলা রাজনীতিতে এখন চরম অস্থিরতা। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে মদন মিত্রের মতো দীর্ঘদিনের অনুগতরা যখন বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন, তখন দল যখন আক্ষরিক অর্থেই ভাঙনের মুখে, ঠিক সেই মুহূর্তে ময়দানে নেমে পড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, লড়াই এখনই শেষ হয়ে যায়নি।

‘৯৭-এর লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি: ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি ২০০৪-এ একা থেকে যদি নতুন করে শুরু করতে পারি, ১৯৯৭-তে যদি নতুন করে শুরু করতে পারি, তবে ২০২৬-এও সেই ক্ষমতা রাখি। এইটুকু জোর আমার আছে।’’ তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি শূন্য থেকে লড়াই করে এসেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘সবকিছু কেড়ে নিলেও আমার হৃদয় জুড়ে রয়েছেন মানুষ ও কর্মীরা। এখান থেকেই আমি তৃণমূল তৈরি করেছিলাম, আজও পারব।’’

দলত্যাগীদের ‘বেইমান’ আখ্যা ও ক্ষমা প্রার্থনা: দলে অব্যাহত রক্তক্ষরণ নিয়ে মমতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তিনি দলত্যাগীদের সরাসরি ‘বেইমান’ বলে আক্রমণ করেছেন। মমতা বলেন, ‘‘আমি মানুষের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইছি এই বেইমানদের জন্য। আমাদের প্রতীকে তাঁদের আপনারা জিতিয়েছেন, তার জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’’ তাঁর দাবি, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বা যারা ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে ভীত, তারাই দল ছাড়ছেন। মমতা স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘‘যাঁদের যেতে হয় যান, যা পড়ে থাকবে—সেটাই আমার সোনার খনি।’’

ভয় ও এজেন্সির রাজনীতির অভিযোগ: মমতার দাবি, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী শিবির তৃণমূল নেতাদের ভয় দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ গিয়ে বলছে—হয় সেটিং কোম্পানিতে নাম লেখান, না হয় জেলে যান। পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে নেতাদের দল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।’’ মদন মিত্রের দলত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ইডির সমনের ভয়েই তিনি দল ছেড়েছেন।

লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আদর্শ বা বিবেক বিকিয়ে রাজনীতি করেন না। জেলে বসে যারা লড়াই করছেন, তাঁদের কুর্নিশ জানিয়ে মমতা স্পষ্ট করেছেন, আগামী দিনে তিনি তৃণমূলকে ফের শূন্য থেকে সাজিয়ে তুলবেন।

তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারের অন্তিম সময়? নাকি সত্যিই ফের কোনো ‘ফিনিক্স পাখি’র মতো উত্থান ঘটবে? রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই দিকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *