‘সব পদ ছাড়লাম, আমি বাংলার বিধায়ক’, দলত্যাগের পরেই বিস্ফোরক মদন মিত্র

বাংলার রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত। এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে পরিচিত কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবার দল ও নেত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কার্যত তৃণমূল সুপ্রিমোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তিনি।

সন্দেহ ও জল্পনার সূত্রপাত
মঙ্গলবার রাতেই মদন মিত্রের গতিবিধি নিয়ে প্রশ্নের উদয় হয়েছিল। ইডি-র তরফে তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্রকে তলব করার ঠিক পরেই তিনি তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সদস্য সন্দীপন সাহার বাবা স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে যান। যদিও প্রথমে তিনি এটিকে কেবল ‘বিরিয়ানি খাওয়ার সৌজন্য’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে বুধবার দুপুরের ঘটনাক্রম সেই জল্পনাকেই বাস্তবে পরিণত করে।

অভিষেকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মদন
এতদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও, এদিন ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েই মদন মিত্র কার্যত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটান। মদন মিত্র বলেন, “অভিষেকের জন্য গোটা দল ধ্বংস হয়েছে। সবার মৃত্যু হলেও শুধু অভিষেক বেঁচে থাকুন—দলে এমন অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” নিজের ইস্তফার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমার বাবার দেওয়া নাম আর বিধায়ক পদ বাদে সব ছেড়ে দিয়েছি। দলের দেওয়া পদগুলো যেন কলাপাতায় লেখা ছিল, আমি তা ছুড়ে ফেলে দিলাম।”

রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মদন। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস বা অনুব্রত মণ্ডলের মতো নেতারা আগেই মমতা শিবিরের হাত ছাড়লেও, এতদিন পর্যন্ত মদন মিত্র দৃঢ়ভাবে নেত্রীর পাশে ছিলেন। শুধু পাশে থাকাই নয়, ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে একাধিকবার তীক্ষ্ণ বাক্যবাণও ছুড়েছিলেন তিনি। আজকের এই সিদ্ধান্ত তাই তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কা। মদন মিত্র নিজেকে কেবল ‘তৃণমূলের MLA’ নয়, বরং ‘বাংলার বিধায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে মমতার তৃণমূলের দিকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *