“৩৪ বার বল স্পর্শ, গোলে একটিও শট নয়”-এমবাপের চোখের সামনেই চুরমার বিশ্বকাপ স্বপ্ন!

ডালাস স্টেডিয়ামে আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ কিলিয়ান এমবাপের। বিশ্বকাপের ট্রফি ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে আসা ফ্রান্স সেমিফাইনালেই থামল স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ডলাইন এদিন স্পেনের পরিকল্পিত রক্ষণভাগের সামনে কার্যত নিস্প্রভ হয়ে রইল।
অদৃশ্য কারাগারে এমবাপে টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ তছনছ করে দেওয়া এমবাপে এদিন যেন স্পেনের তৈরি এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরিসংখ্যান বলছে, প্রথমার্ধে তিনি বল স্পর্শ করেছেন মাত্র ১৪ বার। পুরো ম্যাচে তাঁর বল স্পর্শের সংখ্যা মোটে ৩৪। ছ’বার ড্রিবলের চেষ্টা করেও সফল হয়েছেন মাত্র একবার। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল— এমবাপেকে বলের থেকে দূরে রাখা, যা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা।
কেন মুখ থুবড়ে পড়ল ফ্রান্সের আক্রমণ? ফ্রান্সের এবারের বিশ্বকাপে গড় গোল করার হার ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু সেমিফাইনালের রাতে সেই ছন্দ খুঁজে পাননি দেম্বেলে, ওলিসে বা বারকোলারা। পর্যাপ্ত বলের সাপ্লাই না পাওয়ায় এমবাপেকে অনেক নিচ থেকে বল সংগ্রহ করতে হয়েছে। ফলে বক্সে তাঁর প্রভাব ছিল নগণ্য। ফ্রান্সের ‘এক্সপেক্টেড গোল’ (xG) ছিল মাত্র ০.৩, যা প্রমাণ করে স্পেনের সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ ব্লকের সামনে ফরাসিরা কতটা দিশেহারা ছিল।
হতাশায় মোড়া এমবাপের রাত ম্যাচ যত এগিয়েছে, ফ্রান্সের অসহায়তা ততই স্পষ্ট হয়েছে। শেষ মুহূর্তে বল দখলের লড়াইয়ে উনাই সিমনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে হলুদ কার্ড দেখেন এমবাপে। নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ফর্মে থেকেও দলের ব্যর্থতায় এদিন একাকী লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে জয়ী দলটার দাপট এদিন ছিল না বললেই চলে। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের দিনে স্পেনের রক্ষণাত্মক মাস্টারক্লাস ফুটবলই শেষ পর্যন্ত জয়ী হলো। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে স্পেন এখন ট্রফির অপেক্ষায়, আর এমবাপের বিশ্বজয়ের লড়াই আবারও এক বছরের অপেক্ষায় থমকে রইল।