মাদ্রাসা নিয়োগে বড় ধাক্কা! ৯০০-র বেশি কর্মীর চাকরি নিয়ে ঐতিহাসিক নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলিতে বিগত বছরগুলিতে হওয়া শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগের বৈধতা নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে হওয়া ৯০০-র বেশি শিক্ষক ও কর্মীর নিয়োগকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয়। এই রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির আইনি ভবিষ্যৎ কার্যত শেষ হয়ে গেল।

দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রেক্ষাপট
বাম আমলে গঠিত ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কমিশনের ওপর। কিন্তু এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মাদ্রাসা আদালতে যায়। তাদের দাবি ছিল, সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের মতো করে পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্ট মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের আইনকে বৈধতা দেয়। তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, সেই সময়কালের নিয়োগগুলি নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

কেন খারিজ হলো নিয়োগ?
২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে-র নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির জমা দেওয়া রিপোর্ট ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে:

বিজ্ঞাপনের অভাব: নিয়োগের আগে কোনো সরকারি বিজ্ঞাপন বা প্রচার করা হয়নি।

অনুমোদনহীন পদ: দপ্তরের কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই বহু পদে নিয়োগ করা হয়েছে।

ত্রুটিপূর্ণ কমিটি: নিয়োগের জন্য গঠিত কমিটি আইনসম্মত ছিল না।

কাগজপত্রের অভাব: বহু নিয়োগকারীর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা বা নথিপত্রই পাওয়া যায়নি।

রাজ্য প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালত যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তা মাদ্রাসায় স্বচ্ছ নিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে। যারা জালিয়াতি বা গুরুতর অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *