রথযাত্রার দিনক্ষণ নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে! ইসকনের দাবি খারিজ করে তোপ জগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের

রথযাত্রার দিনক্ষণ এবং ধর্মীয় আচার পালনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (SJTA) এবং ইসকনের (ISKCON) মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। দেশের বাইরে সারা বছর ধরে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে রথযাত্রা আয়োজনের বৈধতা নিয়ে উভয় পক্ষের সংঘাত এখন জনসমক্ষে। জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, পুরীর প্রথা ও শাস্ত্র অনুযায়ী জগন্নাথের রথযাত্রা একটি নির্দিষ্ট তিথিতেই হওয়ার কথা, এর বাইরে যেকোনো সময় রথযাত্রা আয়োজন ‘শাস্ত্রবিরোধী’।

বিতর্কের সূত্রপাত ও মন্দির প্রশাসনের দাবি:
সম্প্রতি ইসকনের দিল্লির ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফিসের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ইসকন দাবি করেছিল, শাস্ত্র অনুযায়ী বছরের যেকোনো দিনেই রথযাত্রা আয়োজন করা যায়। এই দাবিকে ‘সর্বৈব মিথ্যা’ এবং ‘জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে এসজেটিএ (SJTA)। মন্দির প্রশাসনের অভিযোগ, বিশ্বজুড়ে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা নিয়ে যে ভুল ধারণা ইসকন প্রচার করছে, তা পুরীর সনাতন ঐতিহ্যকে খাটো করার শামিল।

যৌথ বৈঠকেও মেলেনি সুরাহা:
এই বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গত ২০ মার্চ, ২০২৫-এ ভুবনেশ্বরে মন্দির প্রশাসন এবং ইসকনের পণ্ডিতদের মধ্যে একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে ইসকনের পক্ষ থেকে সারা বছর বিভিন্ন তারিখে রথযাত্রা আয়োজনের যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পুরীর মন্দিরের পণ্ডিতরা প্রামাণিক শাস্ত্র ও পুরাণের উদ্ধৃতি দিয়ে ইসকনের সেই দাবি সম্পূর্ণ খণ্ডন করে দেন।

গজপতি মহারাজার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি:
মন্দির কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, ইসকন এই বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে পুরীর রাজা গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেবের নাম জড়িয়েছে। ইসকনের দাবি ছিল, মহারাজা এই অসময়ের রথযাত্রায় সম্মতি দিয়েছেন। মন্দির প্রশাসন এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানায়, মহারাজা জার্মানির বার্লিনে ইসকনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন, যা ব্যক্তিগত সৌজন্যবোধের জায়গা থেকে করা হয়েছিল। এটিকে কোনোভাবেই শাস্ত্রীয় অনুমোদন হিসেবে গণ্য করা যায় না।

ইসকনের নীরবতা:
এই বিতর্কিত বিষয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) ইসকনের জাতীয় মুখপাত্র যুধিষ্ঠির গোবিন্দ দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এসজেটিএ-র আনুষ্ঠানিক বিবৃতিটি না দেখে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ইসকনের অবস্থান এখন পর্যন্ত অস্পষ্টই রয়ে গেছে।

জগন্নাথ সংস্কৃতি ও রথযাত্রার পবিত্রতা রক্ষায় মন্দির প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান ভক্ত মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই সংঘাত আদতে সনাতন ঐতিহ্য এবং ক্রমবর্ধমান বিশ্বজনীন রথযাত্রা সংস্কৃতির এক সংঘাত কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও প্রশ্ন উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *