সাপের যম এই ৩ট গাছ! বর্ষায় বাড়ির আশেপাশে লাগালেই পালাবে বিষধর কেউটে

বর্ষার ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি মানেই চারপাশ স্যাঁতসেঁতে আর জলমগ্ন। আর এই সুযোগেই ঝোপঝাড় বা জলার আস্তানা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বিষধর সাপ। সাপের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আগমন রুখতে অনেকেই কার্বলিক অ্যাসিডের মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ওপর ভরসা রাখেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই নিরাপদ নয়। তবে জানেন কি, প্রকৃতির কাছেই রয়েছে এর দুর্দান্ত ও নিরাপদ সমাধান? বাড়ির আশেপাশে কিছু বিশেষ গাছ লাগালেই সাপকে ১০০ হাত দূরে রাখা সম্ভব।
সাপ তাড়াতে জাদুকরী গাছ:
-
গাঁদা গাছ: শীতকালীন বাগানের অন্যতম সেরা এই ফুল গাছটি সাপের কাছে বিভীষিকা। গাঁদা গাছের শেকড় থেকে এক বিশেষ কড়া গন্ধ নির্গত হয়, যা সাপের ঘ্রাণশক্তি ও স্নায়ুকে প্রবলভাবে বিভ্রান্ত করে। বাড়ির সীমানা প্রাচীর বা গেটের চারপাশে সারি দিয়ে গাঁদা গাছ লাগালে সাপের প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
-
লেমনগ্রাস বা গন্ধবেণা: এর তীব্র সাইট্রাস গন্ধ প্রাকৃতিক ‘স্নেক রিপেল্যান্ট’ হিসেবে কাজ করে। এই কড়া গন্ধে সাপের ঘ্রাণশক্তি সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ফলে তারা ওই এলাকা এড়িয়ে চলে। টব বা বাগানের কোণে খুব সহজেই লেমনগ্রাস লাগানো যায়।
-
স্নেক প্লান্ট ও ক্যাকটাস: নাম ‘স্নেক প্লান্ট’ হলেও এটি সাপকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ক্যাকটাস বা ফণীমনসার মতো কাঁটাযুক্ত গাছ বাগানের চারপাশে এক ধরনের প্রাকৃতিক বেষ্টনী তৈরি করে। সাপের পেটের চামড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায়, কাঁটাযুক্ত গাছের ঝোপঝাড় তারা স্বভাবতই এড়িয়ে চলে।
কিছু জরুরি সতর্কতা: কেবল গাছ লাগিয়ে নিশ্চিন্ত হলে চলবে না, বর্ষার দিনে বাড়ির চারপাশের পরিবেশের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন: ১. বাড়ির আশেপাশে বা বাগানে স্তূপ করে রাখা শুকনো পাতা, কাঠের টুকরো বা আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে ফেলুন। এগুলো সাপের আদর্শ লুকনোর জায়গা। ২. নিয়মিত ঝোপঝাড় ছেঁটে রাখুন যাতে আলোর প্রবেশ ঘটে এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি না হয়। ৩. সন্ধের পর বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন।
প্রকৃতির এই সহজ ও নিরাপদ উপায়ের পাশাপাশি সচেতনতা বজায় রাখলেই বর্ষার মরসুমে সাপের আতঙ্ক থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।