বউদির স্নানের VIDEO তুলে যৌন মিলন, কলেজ পড়ুয়াকে খুনে গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী

গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোল এলাকায় এক কলেজ পড়ুয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। অভিযুক্ত বিবাহিতা মহিলার স্নানের ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠেছিল ওই যুবকের বিরুদ্ধে। সেই প্রতিশোধ নিতেই স্বামী ও স্ত্রী মিলে শ্বাসরোধ করে ওই যুবককে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে।
কীভাবে ঘটল ঘটনা? পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত হার্দিক নামে ওই যুবক অভিযুক্ত দম্পতির বাড়ির কাছেই থাকতেন। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে হার্দিক গোপনে ওই মহিলার স্নানের সময় ভিডিও ধারণ করেন। এরপর ওই আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মহিলাকে নিয়মিত যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে হার্দিকের বিরুদ্ধে। সামাজিক অপমানের ভয়ে এতদিন চুপ ছিলেন ওই মহিলা।
পরিকল্পিত খুন: ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মহিলার স্বামী তাঁর স্ত্রীকে হার্দিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেখেন। সন্দেহের বশে জিজ্ঞাসাবাদের পর স্ত্রী সব কথা স্বামীকে খুলে বলেন। অভিযোগ, এরপরও হার্দিক ওই মহিলাকে নিয়মিত বিরক্ত করতেন। এই পরিস্থিতির সুরাহা করতে গিয়ে দম্পতি হত্যার পথ বেছে নেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই সকালে ওই মহিলা ফোন করে হার্দিককে বাড়িতে ডাকেন। স্বামী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ভান করলেও গোপনে বাড়িতেই ওত পেতে ছিলেন। হার্দিক পৌঁছানো মাত্রই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন স্বামী। পুলিশের দাবি, হত্যার সময় স্ত্রী হার্দিকের হাত চেপে ধরেন এবং স্বামী প্রথমে ওড়না ও পরে বৈদ্যুতিক ফ্যানের তার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হার্দিককে খুন করেন।
পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ: খুন করার পর দম্পতি মৃতদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়িতে তালা দিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যান। সন্তানদের আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। এদিকে নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও শ্বাসরোধ করে খুনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ঘটনার পর হার্দিকের মোবাইল ফোনটি ভেঙে রাস্তার ধারে ফেলে দিয়েছে। যে ভিডিওর ভিত্তিতে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ উঠছে, সেই ভিডিওটিও এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি অভিযুক্ত দম্পতি দাবি করেছেন, তাঁরা নিজেরাও সেই ভিডিওটি দেখেননি।
কালোল তালুকা পুলিশ আপাতত দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে এবং হত্যা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছে। আদালতের সামনে পেশ করা প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্তের পরবর্তী মোড় নির্ধারিত হবে।