১০ কেজির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু, জেনেনিন কত দাম?

রান্নাঘরের সিলিন্ডার নিয়ে এবার এক বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিতরণকারী সংস্থাগুলি (OMC)। সাধারণ স্টিলের সিলিন্ডারের বিকল্প হিসেবে এবার ১০ কেজির ‘কম্পোজিট’ (Composite) সিলিন্ডার জনপ্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহর কলকাতায় ইতিমধ্যেই এই সিলিন্ডারগুলির সীমিত ব্যবহার থাকলেও, এবার তা সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।

১০ কেজি সিলিন্ডারের বিশেষত্ব ও সুবিধা: এইচপিসিএল-এর ‘ওজাস’, ইন্ডিয়ান অয়েলের ‘এক্সট্রালাইট’ এবং বিপিএল-এর ‘ভারতগ্যাস লাইট’—এই ব্র্যান্ড নামে বাজারে থাকা সিলিন্ডারগুলি উচ্চ-ঘনত্বের পলিথিন (HDPI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • ওজনে হালকা: প্রচলিত স্টিলের সিলিন্ডারের তুলনায় এটি প্রায় ৫০ শতাংশ হালকা, যা বহন করা অত্যন্ত সহজ।

  • স্বচ্ছতা: সিলিন্ডারের গায়ে থাকা স্বচ্ছ ঢাকনা দিয়ে সহজেই ভেতরে গ্যাসের পরিমাণ দেখা যায়। ফলে রিফিল করার সঠিক সময়টি গ্রাহক নিজেই বুঝে নিতে পারেন।

  • বহনযোগ্য: বহুতল বা ফ্ল্যাটে ওঠার ক্ষেত্রে এগুলি অনেক বেশি সুবিধাজনক।

কাদের জন্য এটি আশীর্বাদ? তেল বিপণন সংস্থাগুলোর এই উদ্যোগ মূলত ছোট পরিবার, পরিযায়ী শ্রমিক, ভাড়াটিয়া, শিক্ষার্থী, হকার এবং ছোট ক্যাফে বা খাবারের দোকানের কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে। যাদের ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার রাখার জায়গা নেই বা ১৪.২ কেজির ডমেস্টিক সিলিন্ডারের প্রয়োজন নেই, তাদের জন্য এই ১০ কেজির সিলিন্ডার একটি কার্যকরী সমাধান হতে পারে।

দাম ও চ্যালেঞ্জ: বর্তমানে কলকাতায় একটি ১৪.২ কেজির ডমেস্টিক সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,০৮১.৫০ টাকা। সেখানে ১০ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬৯১.৫০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাণিজ্যিক মূল্যে এই সিলিন্ডার বিক্রির সিদ্ধান্ত স্বল্প আয়ের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে দাম নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বর্তমানে তেল সংস্থাগুলো চাহিদা, নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির কাজ করছে। সমস্ত মূল্যায়ন সম্পন্ন হলেই সাধারণ মানুষের জন্য এই সিলিন্ডারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *