আইসিসি-কে ‘ইটের পর ইট’ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি মার্কো রুবিও-র! বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র উত্তজনা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি (ICC)-এর বিরুদ্ধে খড়গহস্ত ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসি-কে রীতিমতো ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে এক কঠোর বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমরা আইসিসি-কে ইটের পর ইট ভেঙে ফেলব।” রুবিও-র এই মন্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থান হিসেবে দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কেন এই সংঘাত?
মার্কো রুবিও-র অভিযোগ, আইসিসি আন্তর্জাতিক আইনের নামে আমেরিকা ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে একতরফা যুদ্ধ চালাচ্ছে। আদালতের এই কর্মকাণ্ড তাদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে বলে দাবি করেছেন তিনি। মূলত আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কথিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করার চেষ্টা এবং ইসরায়েল-সম্পর্কিত মামলার জের ধরেই ওয়াশিংটন ও আইসিসি-র এই দীর্ঘদিনের বিরোধ। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মতোই দ্বিতীয় মেয়াদে আদালতটিকে পুরোপুরি কোণঠাসা করার পরিকল্পনা নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

বিশ্বজুড়ে ‘বিচ্ছিন্নকরণ’ অভিযান
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখন বিশ্বব্যাপী একটি কূটনৈতিক অভিযান চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, বিশ্বের দেশগুলো যেন আইসিসি-কে বর্জন করে। রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি আইসিসি-কে সমর্থন দিয়ে যাবে, তাদের মার্কিন চাপ ও তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে।

আমেরিকা কীভাবে দুর্বল করবে আইসিসি-কে?
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইসিসি-কে ব্যর্থ করতে কয়েকটি মূল পথে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন:

নিষেধাজ্ঞা: আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা বাতিল, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নকরণ: সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আদালত ত্যাগ এবং অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি।

মিত্রদের জোট: আইসিসি-র সদস্য নয়, এমন দেশগুলোর সমর্থন আদায় করে আদালতকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করে দেওয়া।

অভিযোগের তির এনজিও ও বামপন্থী গোষ্ঠীর দিকে
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে রুবিও দাবি করেছেন, আইসিসি বর্তমানে কিছু বামপন্থী এনজিও এবং বৈশ্বিক গোষ্ঠীর প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এল সালভাদরের ঘটনা কিংবা ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা-ও তিনি খারিজ করে দিয়েছেন।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আইসিসি বিরোধী এই অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন রুবিও। আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ এই সংস্থার বিরুদ্ধে আমেরিকার এই সর্বাত্মক আক্রমণ আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *