‘সেনাপতির প্রতি ভরসা নেই!’ মমতার পাশে ফিরতে অভিষেককে সরানোর শর্ত দিলেন তৃণমূলেরই বিদ্রোহী নেতারা?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন কার্যত প্রকাশ্য বিদ্রোহের সুর। দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোর দাবিতে একের পর এক নেতা সোচ্চার হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের একাংশের এই বিদ্রোহ বুঝিয়ে দিচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হলেও ‘সেনাপতি’র কার্যপদ্ধতি নিয়ে বড়সড় অস্বস্তি দানা বেঁধেছে তৃণমূলের অন্দরে।

নেতাদের নিশানায় ‘সেনাপতি’:
দলের প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতারা এখন প্রকাশ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে ‘সাইড’ করে দেওয়ার কথা বলছেন। কোচবিহারের দাপুটে নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সরাসরি দাবি তুলেছেন, “অভিষেককে কিছুদিনের জন্য দল থেকে আলাদা করে দিলে অনেক নেতা-নেত্রী, বিধায়ক ও সাংসদ পুনরায় দিদির পাশে ফিরে আসবেন।” এই দাবি কেবল রবীন্দ্রনাথ ঘোষেরই নয়, বিকাশ রায়চৌধুরীর মতো নেতারাও সাফ জানাচ্ছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অটুট থাকলেও, সেনাপতির ওপর দলের একাংশের কোনো ভরসা নেই।”

‘ফেকপ্যাক’ বিতর্কে বিদ্ধ অভিষেক:
শুধু পুরনো নেতারা নন, অনুব্রত মণ্ডলের মতো নেতারাও আইপ্যাক-এর আড়ালে ঘুরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করছেন। তিনি তোপ দেগে বলেন, “আইপ্যাক এখন ‘ফেকপ্যাক’ হয়ে গিয়েছে। দলটা যদি কেবল দিদির হাতে থাকত, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরিই হতো না।” শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সন্তোষ কুমার সিং-এর অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি দাবি করেছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারটাকে পুরোপুরি কব্জা করে নিয়েছিলেন। তিনি সরে গেলে কী ঘটে, তা সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে।”

অস্তিত্বের সংকটে তৃণমূল?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে এই ‘অভিষেক-বিরোধী’ হাওয়া দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাতার তলায় থাকতে চাইলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে মেনে নিতে নারাজ দলেরই একটা বড় অংশ। এই বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে বা দল তার অভ্যন্তরীণ এই সংকট কীভাবে সামাল দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূলের অন্দরে এই বিদ্রোহ আগামী দিনে শাসকদলের নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *