‘না পোষালে ছেড়ে দিন’, ডাক্তারদের ডিউটি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ ঘিরে শোরগোল! এরপরই কি পিছু হঠলেন মন্ত্রী?

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাজের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যার জেরে শেষপর্যন্ত তাঁকে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করতে হয়েছে।

কী বলেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী?
রবিবার অর্থোপেডিক চিকিৎসকদের এক সংগঠনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং শিক্ষক চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকারি চিকিৎসকদের সপ্তাহে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি করতে হবে। এমনকি, তিনি এও মন্তব্য করেন, “যাদের এই নিয়ম পোষাবে না, তারা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন।”

চিকিৎসক মহলের বিক্ষোভ:
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই চিকিৎসক মহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বহু চিকিৎসক এই নির্দেশের অবাস্তবতা তুলে ধরে সরব হন। তাঁদের দাবি, রাজ্যের অনেক চিকিৎসকের কর্মস্থল বাড়ি থেকে ১৫০ কিলোমিটার বা তারও বেশি দূরে। এছাড়া কলকাতার অনেক চিকিৎসককে উত্তরবঙ্গে ডিউটি করতে পাঠানো হয়েছে। এমতাবস্থায়, যাতায়াতের সময় বাদ দিয়ে সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা হাসপাতালে উপস্থিত থাকা কার্যত অসম্ভব। সরকারি চিকিৎসা পরিকাঠামোয় শিক্ষক চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এর আগেও বহুবার বেসরকারি প্র্যাকটিস বা অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল, যার প্রেক্ষিতেই মন্ত্রী এই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অবশেষে সুর বদল:
চিকিৎসক সংগঠনগুলোর ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে পড়ে দ্রুত সুর বদল করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ কাটিয়ে মন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্পষ্টীকরণ জারি করেন। তিনি জানান, সরকারি চিকিৎসকদের ওপর সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা ডিউটির কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ চাপানো হয়নি। এটি মূলত একটি ‘অনুরোধ’। তিনি সরকারি হাসপাতালের শিক্ষক ও শিক্ষক চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ জানান, যাতে তাঁরা কাজের জায়গায় নিয়মিত উপস্থিত থেকে সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি পালন করেন।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু:
রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য হলো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়ানো এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা। তবে মন্ত্রীর ‘চাকরি ছেড়ে দেওয়ার’ মন্তব্য চিকিৎসক সমাজকে যেভাবে অপমানিত করেছে, তা নিয়ে এখনও সমালোচনা চলছে। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, পরিকাঠামোগত সমস্যা না মিটিয়ে শুধুমাত্র ডিউটির সময়সীমা বাড়িয়ে পরিষেবা উন্নত করা সম্ভব নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *