বালি খাদানের কাছে গুলির শব্দে কেঁপে উঠল ঝাড়গ্রাম! গুরুতর জখম দুই যুবক, চাঞ্চল্য এলাকায়

রাত তখন সবে ১০টা। নিস্তব্ধতাকে চিরে পরপর গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর থানার বেতকুঁদরি এলাকায়। বালি খাদানের কাজ শেষে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর জখম হলেন দুই যুবক। বর্তমানে তাঁরা কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঠিক কী ঘটেছিল?
আহত দুই যুবকের নাম শুভদীপ ঘোষ ও অমিত মণ্ডল, তাঁদের বাড়ি বীরভূমের দুবরাজপুরে। তাঁরা স্থানীয় ‘কে কে মিনারেলস’ নামে একটি বালি খাদানে কর্মরত। কাজ শেষে ফেরার পথে রাস্তার ধারে একটি ফুলের তোড়া পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা থমকে দাঁড়ান। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাইকে করে তিন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী এসে তাঁদের পরিচয় ও কাজের খোঁজখবর নিতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।
আহতদের শারীরিক অবস্থা:
গুলিবিদ্ধ শুভদীপের পিঠের ডানদিক ও বাঁ পায়ে আঘাত লেগেছে। অমিতের বাঁ পায়ে গুলি লাগায় হাড় ভেঙে (ফ্র্যাকচার) গিয়েছে। গুলির শব্দ শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাতেই পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশের বয়ান:
ঘটনাস্থলে পৌঁছন ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ফায়ারিং’ হতে পারে। যদিও কেন এবং কারা এই হামলা চালাল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তের মোড়:
একটি বালি খাদান থেকে ফেরার পথে এমন নৃশংস হামলার পেছনে আর্থিক লেনদেন নাকি অন্য কোনো পুরনো শত্রুতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আতঙ্কের পরিবেশে এখন পুলিশি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।