E-20 পেট্রোলে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল? কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

ইথানল মিশ্রিত ‘ই-২০’ পেট্রোলের প্রভাব নিয়ে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণের পথ বেছে নিলেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির বিভিন্ন সার্ভিস সেন্টার ও পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনের পর তাঁর বিস্ফোরক দাবি, এই জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, যার ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ গাড়ির মালিকরা।
কেজরিওয়ালের পরিদর্শনে কী উঠে এল? দিল্লির এক সার্ভিস সেন্টারে পরিদর্শনের সময় কেজরিওয়াল মেকানিক ও গাড়ির মালিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ই-২০ ব্যবহারের ফলে গাড়ির ফুয়েল পাম্প অকেজো হয়ে যাওয়া এবং ইনজেক্টরে প্রচুর কার্বন জমার মতো সমস্যাগুলি নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “অনেকে দাবি করছেন যে তাদের গাড়ি ই-২০ উপযোগী (E20 compatible), তা সত্ত্বেও এক সপ্তাহের মধ্যে গাড়ি চালু করতে সমস্যা হচ্ছে। এমনকি ২২ কিমি মাইলেজ দেওয়া গাড়িও এখন ১৩ কিমি-তে নেমে এসেছে।”
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা: সার্ভিস সেন্টারে আসা একাধিক গাড়ির মালিকদের অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা কেজরিওয়ালের হাতে এসেছে। তাঁদের মতে:
-
অনেক গাড়িই অল্প দূরত্ব চলার পরই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
-
স্কুটার ও বাইকের ক্ষেত্রেও ফুয়েল পাম্প বারবার বদলাতে হচ্ছে।
-
এসি চলাকালীন গাড়ির মাইলেজ ১৫ কিমি থেকে কমে ৫-৮ কিমি-তে নেমে আসছে।
সরকারের কাছে কেজরিওয়ালের প্রস্তাব: কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেজরিওয়াল বলেন, “ভুয়ো প্রচার চালিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি ঢাকা দেওয়া যাবে না। জনগণের কষ্টকে গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি সরকারকে সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছেন, ই-২০ জ্বালানি যদি সরকার চালাতেই চায়, তবে তা যেন বাধ্যতামূলক না করা হয়। যারা ই-২০ কিনতে আগ্রহী তারা কিনবেন, কিন্তু সাধারণ পেট্রোল ব্যবহার করতে চাওয়া গ্রাহকদের জন্য সেই সুযোগ খোলা রাখা হোক।
বিতর্কের কেন্দ্রে প্রযুক্তি: পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে ভারত সরকার ই-২০ পেট্রোলের ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের এই অভিজ্ঞতার অভিযোগ প্রযুক্তিগত মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে সরকারের দাবি, অন্যদিকে ব্যবহারকারীদের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা—ই-২০ জ্বালানির কার্যকারিতা ও ইঞ্জিনের ওপর তার প্রভাব নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে এক গভীর ধোঁয়াশা।