রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে রেকর্ড, হরমুজ সঙ্কটের মাঝে ‘প্ল্যান-B’ কতটা সফল?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে ফের উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই চরম অস্থিরতার আবহে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত যে ‘প্ল্যান-বি’ কার্যকর করেছে, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রাশিয়া থেকে রেকর্ড আমদানি সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (CREA)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জুন মাসে ভারত রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে ভারতের রুশ তেল আমদানির পরিমাণ প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই এক মাসে ভারত প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের তেল কিনেছে পুতিনের দেশ থেকে। ভারতের মোট জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির প্রায় ৮৩ শতাংশই ছিল অপরিশোধিত তেল। বর্তমানে চীনের পরেই রাশিয়া থেকে সর্বাধিক জ্বালানি আমদানিকারী দেশ হলো ভারত।
রিফাইনারিগুলিতে সরবরাহ বৃদ্ধির কারণ ভারতের প্রধান রিফাইনারিগুলিতে রুশ তেলের সরবরাহ বহুগুণ বেড়ে যাওয়াতেই এই রেকর্ড আমদানি সম্ভব হয়েছে। তথ্য বলছে:
-
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (জামনগর): মে মাসের তুলনায় জুনে রুশ তেল সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ।
-
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (পারাদ্বীপ): আমদানি বেড়েছে প্রায় ১২৬ শতাংশ।
-
ভারত পেট্রোলিয়াম (কোচি): বৃদ্ধি প্রায় ৮২ শতাংশ।
-
নায়ারা এনার্জি (ভাদিনার): আমদানি বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।
ভারত কি বিশ্ববাজারের জ্বালানি হাব? শুধু নিজেদের চাহিদা মেটাতেই নয়, রাশিয়ার থেকে আনা এই অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে তা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। CREA-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, তুরস্ক এবং ব্রুনেইয়ের মতো দেশগুলো রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা রিফাইন করার পর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোতে জ্বালানি পণ্য হিসেবে সরবরাহ করছে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারতীয় রিফাইনারিগুলোর কর্মতৎপরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।