ওষুধের দামে রাশ টানল কেন্দ্র! ৩৯টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিল NPPA

দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA) শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোট ৩৯টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের খুচরো সর্বোচ্চ মূল্য (Retail Price) বেঁধে দিয়েছে। এখন থেকে কোনো ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা আর নিজের ইচ্ছেমতো এই ওষুধগুলোর দাম বাড়াতে পারবে না।
কোন কোন রোগের ওষুধ সস্তা হচ্ছে?
হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ), ডায়বিটিস, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, এইচআইভি (HIV), ক্যানসার, সংক্রমণ, চোখের সমস্যা এবং ভিটামিনের ঘাটতি মেটানোর মতো জরুরি ওষুধগুলো এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। মূলত জীবনদায়ী ওষুধের দাম সাধারণের সাধ্যের মধ্যে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
দাম নির্ধারণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
হাইপারটেনশন: অ্যামলোডিপাইন (Amlodipine), টেলমিসার্টান (Telmisartan) ইত্যাদি ট্যাবলেটের প্রতিটি দানা ১২.০৩ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
ডায়বিটিস: এমপাগ্লিফ্লোজিন (Empagliflozin) ও সিটাগ্লিপটিন (Sitagliptin)-এর মতো ওষুধের দাম ডোজ অনুযায়ী ১৪.৮৮ থেকে ১৭.১৭ টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে।
হার্ট অ্যাটাক: হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৫০ মিলিগ্রামের টেনেপ্লেটেজ (Tenecteplase) ইনজেকশনের প্রতিটি ভায়ালের দাম ৬০,২৩৮.২৭ টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
এইচআইভি: এইচআইভি রোগীদের কম্বো কিটের দাম ধার্য করা হয়েছে ৩৩০.৩০ টাকা।
(দ্রষ্টব্য: এই মূল্যের ওপর পণ্য ও পরিষেবা কর বা GST অতিরিক্ত প্রযোজ্য হবে।)
নির্দেশনা ও কঠোর হুঁশিয়ারি:
NPPA স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনো সংস্থা পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত কোনো ওষুধ নতুন করে বাজারে আনে, তবে তাদের অবশ্যই সরকারের নির্ধারিত দাম মেনে চলতে হবে। ওষুধ বাজারে ছাড়ার এক মাসের মধ্যে ‘ইন্টিগ্রেটেড ফার্মাসিউটিক্যাল ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ২.০’-তে প্রয়োজনীয় তথ্য (Form-IA) জমা দিতে হবে।
খুচরো বিক্রেতা এবং ডিলারদের জন্য নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে:
১. সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের তালিকা দোকানে এমনভাবে প্রদর্শন করতে হবে যাতে ক্রেতারা সহজেই দেখতে পান।
২. নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়। কোনো বিক্রেতা বাড়তি টাকা নিলে, সেই অতিরিক্ত অর্থ সুদসহ ক্রেতাকে ফেরত দিতে হবে।
সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসা খরচ অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।