৪০ বছরের খরা কাটিয়ে নিউজিল্যান্ডে মোদী! ১৮টি চুক্তিতে খুলল উন্নতির নতুন পথ

দীর্ঘ ৪০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশ মোট ১৮টি বড় চুক্তি ও ঘোষণায় সিলমোহর দিয়েছে, যা আগামী দিনে ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে এক শক্তিশালী কৌশলগত মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মহাচুক্তি: এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা। দুই দেশের সামরিক বাহিনী এখন থেকে তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ মহড়া এবং একে অপরকে রসদ সরবরাহে সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন রুখতে এই সমুদ্র নিরাপত্তা চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ-রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া, সন্ত্রাসবাদ দমনে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি বিনিময়ের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

কৃষি থেকে বাণিজ্য: লক্ষ্য ২০৩০:

  • বাণিজ্য: দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ৭ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার টার্গেট সেট করেছে। এটি ভবিষ্যতে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ (FTA)-র পথে বড় পদক্ষেপ।

  • কৃষি ও দুগ্ধ শিল্প: কিউইফল চাষের উন্নতির জন্য নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে দুটি ‘উৎকর্ষ কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

  • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য: গুজরাটের লোথালে নির্মীয়মাণ ‘জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্স’-এর উন্নয়নে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা ভারতের পর্যটন ও ঐতিহ্যের প্রসারে বড় ভূমিকা রাখবে।

চিনকে কি বার্তা দিচ্ছে এই সফর? ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার বিরুদ্ধে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের এই গভীর পার্টনারশিপ এক শক্তিশালী কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করবে। প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যে দুই দেশের এই নতুন বোঝাপড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র:

  • ক্রীড়া: ক্রীড়াবিদ প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া বিজ্ঞান ও মেডিসিনে যৌথ উদ্যোগ।

  • পর্যটন: দুই দেশের মধ্যে পর্যটন প্রসারের লক্ষ্যে নতুন চুক্তি।

এই ঐতিহাসিক সফরের ফলে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সম্পর্ক কেবল বন্ধুত্বের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং তা অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *