হঠাৎ দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কেন? ঝুঁকি নিয়েই কি মাস্টারস্ট্রোক দিতে চলেছেন শেখ হাসিনা?

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণ-আন্দোলন দমনের অভিযোগে তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী।

কেন এই আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত? শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, “তারা হয়তো দেশে ফিরলে আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, এমনকী মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মীরা বর্তমানে চরম দমনপীড়নের শিকার।” আবেগতাড়িত কন্ঠে তিনি আরও যোগ করেন, “যদি মৃত্যু আমার কপালে লেখা থাকে, তবে তা যেন আমার নিজের দেশের মাটিতেই আসে। যেখানে আমার পরম শ্রদ্ধেয় বাবা-মা শুয়ে আছেন এবং যেখানে আমাদের পরিবারের রক্ত মিশে আছে।”

নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ: বর্তমানে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি চলছে, তার প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দুই দেশই। সূত্রের খবর, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাঁর সঙ্গে দেশে ফেরার তালিকায় রয়েছেন।

ভারতের অবস্থান: শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকা থেকে ক্রমাগত অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব বিচার বিভাগীয় এবং আইনি ব্যবস্থার অধীনে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি নিজেই সেখানে ফিরে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *