ঐতিহ্য বজায় রাখার লড়াই: ২১ জুলাই ধর্মতলায় সভার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ মমতা-তৃণমূল

প্রতিবারের মতো এবারও ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালনের জন্য ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ধর্মতলা মোড়কে বেছে নিতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু পুলিশের তরফে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় এবং ধর্মতলা চত্বরে সভার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায়, শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হলেন ঘাসফুল শিবিরের নেতারা।

হাইকোর্টে মামলা: তৃণমূল সাংসদ তথা দলের জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক ডেরেক ও’ব্রায়েন এই মর্মে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে করা এই আবেদনে ৩০ জুন লালবাজারের দেওয়া সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, যেখানে ২১ জুলাই ধর্মতলায় সভা বা মিছিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আবেদনকারীর দাবি, কেন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত পুলিশের রিপোর্ট বা ইনপুট আদালত তলব করুক এবং প্রয়োজনে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হোক। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

তরজার নেপথ্যে: উল্লেখ্য, এ বছর ২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। একদিকে আদি তৃণমূল, অন্যদিকে নব তৃণমূল—উভয় পক্ষই ধর্মতলায় সভার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে সরকার উভয় আবেদনই খারিজ করে দেয়। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস এই ধর্মতলার মোড়েই ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালন করে আসছে। তবে ২০১১ সালে ব্রিগেড এবং অতিমারি আবহে ২০২০ ও ২০২১ সালে ধর্মতলার বাইরে সভা হয়েছিল।

বিকল্প চিন্তাভাবনা: ইতিমধ্যেই সভার স্থান পরিবর্তন নিয়ে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্রসহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সূত্রের খবর, বিকল্প হিসেবে তিনটি জায়গার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। তবে শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ধর্মতলার বদলে অন্য কোনো স্থানে সভা হবে কি না, বা আদালত কী রায় দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বেশ কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া এবং দলের আর্থিক সংকটের খবরের মাঝে এই আইনি লড়াই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *