স্কুলের শিক্ষিকার তৎপরতায় ফাঁস নারকীয় নির্যাতন! নিজের বাড়িতেই দীর্ঘ ২ বছর নিগৃহীতা কিশোরী

নিজের বাড়িতেই দীর্ঘ দু’বছর ধরে চলা এক নারকীয় যৌন নির্যাতনের ঘটনা সামনে এল উত্তর ২৪ পরগনার হাবরায়। অভিযোগ, নিজের সৎ বাবা ও সৎ দাদুর লালসার শিকার হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই দুই ব্যক্তির পাশাপাশি নির্যাতিতা কিশোরীর মাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে হাবরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

কীভাবে ফাঁস হলো ঘটনা? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে কিশোরীর মায়ের সঙ্গে তার বাবার বিচ্ছেদ হয়। এরপর মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন এবং মেয়েকে নিয়ে নতুন স্বামীর বাড়িতে থাকা শুরু করেন। সম্প্রতি হাবরার একটি নামী স্কুলের শিক্ষিকারা লক্ষ করেন, ওই ছাত্রী স্কুলে অত্যন্ত বিষণ্ণ থাকছে এবং তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে।

বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে শ্রেণি শিক্ষিকা তাকে আলাদাভাবে ডেকে কথা বলেন। সেই সময় কিশোরী কান্নায় ভেঙে পড়ে শিক্ষিকাদের কাছে জানায়, গত দুই বছর ধরে তার সৎ দাদু এবং পরে সৎ বাবা ক্রমাগত তাকে শারীরিক নির্যাতন করছে। এই নির্যাতনের ফলে সে শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

মায়ের নীরবতা ও পুলিশের পদক্ষেপ: ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে শিক্ষিকারা তড়িঘড়ি হাবরা থানায় খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই হাবরা থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অভিজিৎ বিশ্বাস স্কুলে পৌঁছান এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ সৎ বাবা ও সৎ দাদুকে গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রশ্ন ওঠে, মেয়ের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চললেও মা কেন চুপ ছিলেন? পুলিশের জেরায় মা স্বীকার করেন যে, তিনি সব জানতেন, কিন্তু শ্বশুর ও স্বামীর কার্যকলাপের প্রতিবাদ করলে সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে তিনি মুখ খোলার সাহস পাননি। সন্তানের নিরাপত্তার চেয়ে সংসারকেই প্রাধান্য দেওয়ার এই ‘অপরাধে’ পুলিশ মাকেও গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার ধৃত তিনজনকে বারাসত আদালতে তোলা হয়েছে। বারাসত পুলিশ জেলার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং নির্যাতিতা কিশোরীর যথাযথ আইনি সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *