হামাসের সুরঙ্গে সিমেন্ট ঢেলে জীবন্ত সমাধি! গাজা কি তবে এবার পুরোপুরি ইজরায়েলের দখলে?

গত ১৮ বছর ধরে গাজা ভূখণ্ড শাসন করার পর অবশেষে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল হামাস। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) নিরন্তর সামরিক অভিযানের চাপে কোণঠাসা হয়ে হামাস তাদের সরকার এবং জরুরি বিষয়ক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি এখনই হচ্ছে না। হামাস স্পষ্ট জানিয়েছে, গাজার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না। কিন্তু গাজার নিয়ন্ত্রণ জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন টেকনিক্যাল কমিটির হাতে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এই আত্মসমর্পণের নেপথ্যে রয়েছে ইজরায়েলের এক অকল্পনীয় সামরিক রণকৌশল। গাজার মাটির নিচে হামাসের তৈরি যে বিশাল সুরঙ্গ নেটওয়ার্ককে তারা ‘অভেদ্য’ মনে করত, ইজরায়েল সেই সুরঙ্গপথগুলোকেই তাদের মরণফাঁদে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিকতম এক অভিযানে, রাফাহ এলাকায় হামাসের ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুরঙ্গ নেটওয়ার্ককে সিমেন্ট দিয়ে বুজিয়ে দেওয়ার ভয়াবহ ছবি প্রকাশ পেয়েছে। সামরিক তথ্যানুযায়ী, এই সুরঙ্গটি ধ্বংস করার সময় ভেতরে ১৫০ জনেরও বেশি হামাস জঙ্গি উপস্থিত ছিল, যারা ইজরায়েলি বাহিনীর এই অভিনব ও নৃশংস কৌশলে সেখানেই জীবন্ত সমাধিস্থ হয়েছে।
৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামলার পর ইজরায়েল গাজাকে কেন্দ্র করে যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, তাতে পুরো এলাকা আজ এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে প্রায় ৭৩,০০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১,৭৫,০০০ মানুষ। হামাসের তৈরি এই সুরঙ্গগুলো সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল ও মসজিদের নিচে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। যুদ্ধের সময় ইজরায়েলি বন্দিদের এখানেই দিনের পর দিন আটকে রেখে ইজরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করত হামাস।
কিন্তু ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের কঠোর অবস্থান ও সুরঙ্গগুলোকে কংক্রিটে ঢেকে ফেলার নীতি হামাসের মূল চালিকাশক্তিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ৩০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সুরঙ্গ নেটওয়ার্কই ছিল হামাসের টিকে থাকার প্রধান রসদ। ইজরায়েলি বাহিনী এখন একটির পর একটি সুরঙ্গ ধ্বংস করে হামাসের পায়ের তলার মাটি কেড়ে নিচ্ছে। গাজা থেকে হামাসের সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত কি ইজরায়েলের চূড়ান্ত বিজয়, নাকি এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের এক নতুন ও জটিল পর্বের সূচনা? তা সময়ই বলে দেবে। তবে নিশ্চিতভাবেই, গাজার ইতিহাসের পাতা আজ এক বড় মোড় নিল।