‘অপরাধ দমনে পুলিশ কাঁপবে না’, বারুইপুরকাণ্ডে এনকাউন্টার নিয়ে বড় মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও নৃশংস খুনের ঘটনায় উত্তাল বারুইপুর। একদিকে যেমন এই ঘটনায় জড়িতদের ধরপাকড় চলছে, অন্যদিকে এনকাউন্টারে মূল অভিযুক্তের মৃত্যু নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে বিতর্ক। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এনকাউন্টার নিয়ে রাজনৈতিক তরজা:
বারুইপুরকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলায় সম্ভবত প্রথমবার এমন এনকাউন্টার হলো। সরকার অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। পুলিশ চাইলে যে সবকিছু করতে পারে, তা প্রমাণিত। অপরাধীকে আটকাতে গিয়ে পুলিশ গুলি চালাতেও দ্বিধাবোধ করেনি।” তিনি আরও দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের ধাঁচে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার পিছপা হবে না। একইসঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বিরোধীরা যখন ছবি তুলছে, তখন সরকার ও মন্ত্রীদের প্রতিনিধিরা সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতারি:
ইতিমধ্যে নাবালিকা খুনের ঘটনায় চতুর্থ অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে বসিরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে প্রভাস মণ্ডল, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে পুলিশ জালে তুলেছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে ঘটনার রাতে এই চারজনের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।
কীভাবে মৃত্যু হলো প্রভাসের?
পুলিশি জেরায় বারবার বয়ান পরিবর্তন করে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করছিল মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction) করতে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযোগ, সেই সুযোগেই সে আচমকা পুলিশের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় এবং পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আহত হয় প্রভাস। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ৮ জুলাই বুধবার পুলিশের ওপর হামলা ও গণপিটুনির ঘটনায় নতুন করে আরও ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা আজও বিক্ষোভ জারি রেখেছেন।