স্কুলের থালায় ডিমের বদলে ডাল-রাজমা? মিড-ডে মিল ইস্যুতে বিস্ফোরক মমতা

রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের রান্নার দায়িত্ব ইসকন (ISKCON)-কে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করার পর থেকেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। একদিকে পুষ্টিগুণ নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন আদালতেও গড়িয়েছে।

বুধবার বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কালীঘাট। এই ঘটনার রেশ ধরেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিড-ডে মিল ইস্যুতে সরাসরি নিশানা করেন বিজেপি সরকারকে। মমতা অভিযোগ করেন, “স্কুলে মিড-ডে মিলে ডিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই ডিম বিজেপি কর্মীরা পাচ্ছে। রাম মন্দির ট্রাস্টকে গিয়ে ডিমগুলো মারুক!”

তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, “মিড-ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ কর্মী আজ হাহাকার করছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে এক নতুন ‘ডিম থেরাপি’ সংস্কৃতি শুরু হয়েছে।”

হাইকোর্টে কী জানাল রাজ্য? কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে ইসকনকে রান্নার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল হয়। এই মামলার শুনানি চলাকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কাছে হলফনামা চেয়ে পাঠিয়েছে।

মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কলকাতার ১,৮০০ স্কুলে ইসকনের খাবার দেওয়ার পরিকল্পনায় অন্তত ২৫ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলার কর্মসংস্থান বিপন্ন হতে পারে। এর উত্তরে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, বিষয়টি এখনও প্রাথমিক ‘প্রস্তাব’ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার ভবিষ্যতে কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করলে তখন লক্ষ লক্ষ মানুষের রুটি-রুজির কী হবে? রাজ্যকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিতর্কের মূলে কী? পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, শিশুদের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের বিকল্প মেটানো কঠিন। অন্যদিকে, ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়ার ফলে রান্না ও পরিবেশনের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথাগত মিড-ডে মিলের পরিকাঠামো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা নিয়েই এখন চলছে রাজ্য রাজনীতি ও আদালতের টানাপোড়েন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *