সিয়া আগেই চেতনকে বিয়ে করেছিল, কেতন আগরওয়াল খুনে চাঞ্চল্যকর মোড়

পুনের আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। লোহগড় দুর্গে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে হবু স্ত্রীকে হবু বরের বন্ধুর হাতে খুনের এই ঘটনায় এবার উঠে এল ‘গোপন বিয়ে’র তত্ত্ব। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগেই গোপনে বিয়ে করেছিলেন।

ডিজিটাল তথ্যে মিলল ইঙ্গিত পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া চ্যাট এবং ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা এই বিয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছেন। উদ্ধার হওয়া মেসেজে দেখা গেছে, সিয়া ও চেতন নিজেদের একে অপরকে ‘স্বামী-স্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করছেন। তাদের সম্পর্ক যে গভীর ছিল, তা ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ থেকেই পরিষ্কার। এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এই বিয়ের কোনো আইনি নথি বা সরকারি নিবন্ধন আছে কি না।

ঘটনার পটভূমি গত ১৮ জুন পুনের লোহগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে খাড়া পাহাড় থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ২৫ বছর বয়সী কেতন আগরওয়ালের। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা মনে হলেও পরে পুলিশের তদন্তে খুনের রহস্য উন্মোচিত হয়। তদন্তে জানা যায়, চলতি বছর নভেম্বরে কেতনের সাথে সিয়ার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক ছিল। অথচ, সিয়া গোপনে চেতন চৌধুরীর সাথে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের দাবি, এই সম্পর্কের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কেতন আগরওয়াল। সেই কারণেই তাঁকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন সিয়া ও চেতন। পুলিশের অভিযোগ, এটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অপরাধ সংঘটনের আগে অভিযুক্তরা একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘মহড়া’ও দিয়েছিল।

বর্তমানে সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও ‘গোপন বিয়ে’র বিষয়টি এখনও সরকারিভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ, তবে এই তথ্যটি প্রমাণ হলে মামলার মোড় পুরোপুরি ঘুরে যাবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আপনার কী মতামত? আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *