স্কুলে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে তুঙ্গে বিবাদ, ছাত্রীকে বহিষ্কারের অভিযোগ অস্বীকার স্কুলের

গলায় তুলসীর মালা ও কপালে চন্দনের তিলক পরে স্কুলে যাওয়ায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ার পাড়া গার্লস হাইস্কুলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহযোগিতায় পাড়া থানায় স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ছাত্রীর পরিবার।
অভিযোগ ও পালটা অভিযোগ: ছাত্রীর পরিবারের দাবি, দীক্ষা নেওয়ার পর থেকেই সে নিয়মিত তুলসীর মালা ও তিলক পরে স্কুলে যায়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আপত্তির জেরে তাঁকে নানা অপমানজনক কথা শুনতে হয় এবং সহপাঠীদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়। প্রতিবাদ করায় ছাত্রীকে টিসি ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা ঘোষ। তিনি বলেন, “ছাত্রীর ওপর কোনো ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। বিদ্যালয় কেবল নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার কথা বলেছে। ওই ছাত্রী সামাজিক মাধ্যমে স্কুলকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও পোস্ট করায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।” প্রধান শিক্ষিকা আরও দাবি করেন, টিসি দেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ: ঘটনার জল গড়িয়েছে থানা এবং বিডিও অফিস পর্যন্ত। বিডিও নীলাঞ্জন সিনহা জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে ছাত্রীর পড়াশোনার কোনো ক্ষতি না হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাড়া বিধানসভার বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী নদীয়ার চাঁদ বাউরীও জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন পুরুলিয়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক। ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন পুরো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।