আবাস যোজনার বকেয়া টাকা নিয়ে বড় খবর! ডবল ইঞ্জিন সরকারের তৎপরতায় মিলবে কি দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ?

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আটকে থাকা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেতে এবার সক্রিয় উদ্যোগ নিল রাজ্যের বর্তমান ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। দীর্ঘ দিন ধরে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ থাকায় যে লক্ষাধিক পরিবার বাড়ি তৈরির কাজ মাঝপথে ফেলে রেখেছিলেন, তাঁদের স্বস্তি দিতেই কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে নবান্ন।
কেন এই সমস্যা?
২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী এই প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ বন্ধ ছিল। সেই সময় পূর্বতন সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে উপভোক্তাদের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাতে গিয়ে বিপাকে পড়ে রাজ্য। নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ি তৈরির মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে কেন্দ্র ৭০ হাজার এবং বাকি অংশ রাজ্য সরকারকে বহন করতে হয়। বরাদ্দ আটকে থাকায় সাধারণ মানুষের পাকা বাড়ির স্বপ্ন দীর্ঘ দিন থমকে ছিল।
উপভোক্তাদের তালিকা যাচাইয়ে কড়াকড়ি:
প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তারাই যাতে সরকারি সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকা, এসআইআর (SIR) রিপোর্ট এবং বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখে তালিকা পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। যাঁদের আবেদন এখনও বিচারাধীন, তাঁদের বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে প্রশাসন:
রাজ্য প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রের সবুজ সংকেত মিললেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রায় ১৬ লক্ষ দরিদ্র পরিবার এই কিস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। রাজ্য সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এতদিন প্রকল্পটি টিকিয়ে রাখলেও, এখন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় সহায়তাই শেষ কথা বলছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব:
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই আটকে থাকা প্রকল্পগুলি দ্রুত শেষ করতে তৎপর নতুন প্রশাসন। আবাস যোজনার জটিলতা কাটলে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় গৃহহীনদের সমস্যার সমাধান যে অনেকাংশে সহজ হবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কবে নাগাদ নবান্নের হাতে পৌঁছায় এবং কবে থেকে উপভোক্তারা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হাতে পান।