পৃথিবীতে কি সত্যিই প্রত্যেকের ৭টি করে ‘হামশকল’ আছে? ভাইরাল দাবির পেছনে আসল সত্য জানাল বিজ্ঞান!

“পৃথিবীতে নাকি প্রত্যেকের মতো দেখতে আরও সাতজন মানুষ রয়েছেন!”—এই কথাটি আমরা প্রায়শই শুনে থাকি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অচেনা কোনো মানুষের ছবি দেখে আমরা অবাক হই, কারণ তাঁর সঙ্গে পরিচিত কারও চেহারার মিল পাওয়া যায়। কিন্তু এই দাবি কি আদৌ সত্যি? নাকি এটি কেবলই একটি প্রচলিত মিথ? চলুন বিজ্ঞানের চোখে বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া যাক।
বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হামশকল’
সোজা কথায় বলতে গেলে, এই দাবির পেছনে কোনো শক্তপোক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি। মানুষের মুখের গঠন তৈরি হয় অসংখ্য জিনের সমন্বয়, চোখের আকার, নাকের গঠন, ঠোঁট এবং চোয়ালের সূক্ষ্ম পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে। বিপুল জনসংখ্যার পৃথিবীতে কিছু মানুষের মুখের বৈশিষ্ট্যে মিল থাকাটা অসম্ভব নয়, কিন্তু সম্পূর্ণ হুবহু একরকম মানুষ পাওয়াটা অত্যন্ত বিরল।
আমাদের মস্তিষ্ক কেন বিভ্রান্ত হয়?
আমাদের মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি যে, এটি খুব দ্রুত মুখের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পেলে তা মনে গেঁথে রাখে। যদি কারও চোখের দৃষ্টি, হাসি বা চোয়ালের গঠন পরিচিত কারোর সঙ্গে মিলে যায়, তবে আমাদের মস্তিষ্ক সঙ্গে সঙ্গে মনে করে ফেলে—‘ও তো অমুকের মতো দেখতে!’ কিন্তু যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তবেই ধরা পড়ে যে সেই দুই ব্যক্তির মুখের আদলে অনেক বড় বড় পার্থক্য রয়েছে।
দাবির সত্যতা কতটুকু?
বর্তমানে সারা বিশ্বে এমন অনেক প্ল্যাটফর্ম বা প্রোজেক্ট তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষ নিজেদের ‘টুইন’ বা হামশকল খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। কিছু ক্ষেত্রে চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেলেও, ‘সাতজন হামশকল’—এই সংখ্যাটি নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, এটি মূলত একটি জনশ্রুতি যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।
সংক্ষিপ্ত সার:
সহজ কথায়, মানুষের মুখে অমিল থাকাই স্বাভাবিক। কেউ কারো মতো দেখতে হতেই পারে, সেটা অনেকটা দৈবযোগের মতো। তবে এটি কোনো মহাজাগতিক নিয়ম নয় যে, প্রত্যেকের জন্যই পৃথিবীতে সাতটি হুবহু কপি তৈরি করে রাখা হয়েছে!