‘তৃণমূল নেতাদের পরিবারকে সুবিধা!’ অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন নিয়ে বিস্ফোরক চন্দনা বাউড়ি

অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে অসন্তোষ। আবেদন করেও বহু যোগ্য উপভোক্তা টাকা না পাওয়ায় বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এবার এই ইস্যুতেই বাঁকুড়ার মেজিয়া বিডিও অফিসে পৌঁছে সরকারি কর্মীদের তীব্র ভর্ৎসনা করলেন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি। প্রকল্পের কাজকর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবিতে তিনি রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিডিও অফিসকে।
বিধায়কের বিস্ফোরক অভিযোগ:
চন্দনা বাউড়ির মূল অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনার ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত কর্মীরা অধিকাংশই তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে সরাসরি যুক্ত। বিধায়কের দাবি, প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল নেতাদের পরিবারের সদস্যদেরই এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, আর বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ বিজেপি কর্মী ও ভোটাররা।” তিনি মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে আবেদন বাছাই করা হচ্ছে বলেই প্রকৃত উপভোক্তারা সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিডিও অফিসে মুখোমুখি কথোপকথন:
সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে মেজিয়া বিডিও অফিসে গিয়ে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের সাথে মুখোমুখি কথা বলেন বিধায়ক। সেখানে তিনি জানতে চান, কেন নিয়ম মেনে আবেদন করা সত্ত্বেও বহু মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি? বিধায়ক স্পষ্টভাবে জানান, সরকারি প্রকল্পে কোনো প্রকার বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, “প্রশাসনের এই পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট করছে।”
প্রশাসনের কাছে কী বার্তা:
প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে বিধায়ক জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন যাচাই প্রক্রিয়ায় (Verification) স্বচ্ছতা ফেরাতে হবে। আপাতত আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরার আবেদন জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত যাতে পুনরায় ভেরিফিকেশন হয়, সেই দাবিও তিনি তুলেছেন।
রাজনৈতিক তরজা তীব্র:
বিধায়কের এই হুঁশিয়ারি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, বিজেপির এই দাবি যে সামনে আসন্ন পঞ্চায়েত বা অন্যান্য নির্বাচনের আগে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য। সরকারি প্রকল্প বণ্টনের নামে রাজনৈতিক স্বজনপোষণের এই অভিযোগে এখন তদন্তের দাবি তুলছেন স্থানীয়দের একাংশ।