শ্যামাপ্রসাদের জন্মজয়ন্তীতে তুঙ্গে চাহিদা, রাতদিন এক করে মূর্তি গড়ছেন ভীম পাল

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যখন সাজসাজ রব, তখন পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ার ডোবরানা গ্রামের এক প্রত্যন্ত স্টুডিয়োতে চলছে এক নিরন্তর কর্মযজ্ঞ। ভাস্কর ভীম পালের হাতের জাদুতে তৈরি শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির কদর এখন রাজ্যজুড়ে, যার জেরে নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত এক করে কাজ করছেন তিনি।
শিল্পীর স্টুডিয়োতে ব্যস্ততা: গত ১২ বছর ধরে ভাস্কর্য শিল্পে যুক্ত ভীম পালের ডোবরানা ও বোলপুরে দুটি স্টুডিয়ো রয়েছে। তাঁর তৈরি মূর্তির নিখুঁত কারুকার্যের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বরাতের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। খোদ বিধায়ক থেকে শুরু করে বিজেপির প্রথম সারির নেতারা তাঁর মূর্তির ওপর আস্থা রাখছেন। ভীমবাবু জানান, আগামী এক মাসের মধ্যেই ১৫ থেকে ২০টি মূর্তির দায়িত্ব রয়েছে তাঁর কাঁধে।
শিল্পের সীমাবদ্ধতা বনাম সময়ের লড়াই: বিপুল চাহিদার মাঝে শিল্পীর একমাত্র দুশ্চিন্তা হলো ‘সময়ের স্বল্পতা’। ভীম পাল আক্ষেপের সুরে বলেন, “অধিকাংশ অর্ডারই আসে শেষ মুহূর্তে। কেউ একদিনের নোটিশে মূর্তি চায়। কিন্তু একটি ফাইবার কোটেড মূর্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় মাটির ক্লে মডেলিং থেকে শুরু করে মোল্ড তৈরি—সবটাই সময়সাপেক্ষ।” তাঁর মতে, একটি আবক্ষ মূর্তি নিখুঁতভাবে তৈরি করতে ১৫-২০ দিন এবং পূর্ণাঙ্গ মূর্তি তৈরিতে প্রায় এক মাস সময় প্রয়োজন।
কেন এই ফাইবার মূর্তির জনপ্রিয়তা? ভীম পাল জানান, ব্রোঞ্জের মূর্তি তৈরির খরচ প্রায় তিন লক্ষ টাকা, যা অনেকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়। সেদিক থেকে সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার ফাইবার গ্লাসের মূর্তি তৈরি করতে খরচ পড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আবার এই মূর্তিগুলো ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। কম খরচে দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে বর্তমানে ফাইবার কোটেড মূর্তির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
এর আগে বীরভূম বিজেপি কার্যালয় কিংবা দুর্গাপুরে শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শহিদ মূর্তি তৈরি করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। শিল্পীর এই সাধনা এবং শিল্পকর্ম আজ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সময়ের চাপে সব অর্ডার সময়মতো মেটানো সম্ভব না হলেও, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীর আবহে জামুড়িয়ার এই ভাস্করের সৃজনীশক্তি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।