পা ও গলায় দড়ি বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার বিজেপি কর্মীর দেহ! তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ পরিবারের

নদিয়ার কল্যাণীর চাঁদাবাড়ি বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে এক বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃত বিশ্বজিৎ সিকদারের (৩৯) দুই পা দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় আমগাছে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি কী? নিহত বিশ্বজিৎ সিকদার কল্যাণী থানার সাহেব বাগান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পরিবার বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুক্ত। স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বিশ্বজিৎ বাড়ি থেকে বের হন এবং আর ফিরে আসেননি। সোমবার সকালে সাইকেলের দোকানের অদূরে একটি আমবাগানে তাঁর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ: নিহতের ভাই বিকাশ সিকদার কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছেন, তাঁর দাদা আত্মহত্যা করার মতো ছেলে নন। পরিবারের দাবি, দাদাকে খুন করে দেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা শ্রীনিবাস মণ্ডলের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে সাইকেলের দোকান সংলগ্ন জায়গা দখল নিয়ে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীর সঙ্গে বিশ্বজিতের বিবাদ হয়েছিল। সেই আক্রোশ থেকেই তাঁকে খুন করা হতে পারে বলে দাবি বিজেপির। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে ফোন কল লিস্ট খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
পুলিশের ভূমিকা: খবর পেয়েই কল্যাণী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। রানাঘাট জেলা পুলিশ সুপার আশিস মৈজ্য জানিয়েছেন, “আমরা তদন্ত শুরু করেছি। মৃত্যুর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না বা এটি খুন না আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে।” পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।