নৌ-ঘাঁটির নিরাপত্তায় এবার দেশীয় ড্রোনের দাপট: অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত হবে ভারতীয় নৌবাহিনী

নৌ-ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় স্থাপনার নিরাপত্তায় এবার আরও আধুনিক ও শক্তিশালী হতে চলেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। শত্রুর যেকোনো গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ‘মাল্টি-কপ্টার নজরদারি ড্রোন’ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করল নৌসেনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি ‘রিকোয়েস্ট ফর ইনফরমেশন’ (RFI) জারি করেছে।
কেন এই নতুন উদ্যোগ? নৌবাহিনীর স্থল-ভিত্তিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এই প্রথমবার এমন বিশেষায়িত ড্রোনের ব্যবহার শুরু হতে চলেছে। সরকারি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে সামনে রেখে এই সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি ‘Buy (Indian-IDDM)’ ক্যাটাগরিতে করা হচ্ছে, অর্থাৎ ড্রোনগুলোতে অন্তত ৫০ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
ড্রোনটির বিশেষত্ব: নৌবাহিনী এমন কিছু ড্রোন চাইছে যা আকাশ থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে রাখবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোকে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
-
অত্যাধুনিক ক্যামেরা: ড্রোনে থাকবে শক্তিশালী ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড (EO/IR) ক্যামেরা, যা দিন-রাত ৩৬০-ডিগ্রি এলাকায় নজর রাখতে পারবে। এটি একসঙ্গে ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে সক্ষম।
-
সক্ষমতা ও গতি: ২,০০০ ফুট উচ্চতায় ওড়া এই ড্রোনটি ৪০ নট গতিতে ছুটতে পারবে। ২০ কিলোমিটার পরিসরে নজরদারি চালাতে সক্ষম এই ড্রোন একটানা ২ ঘণ্টা আকাশে থাকতে পারবে।
-
সুরক্ষা প্রযুক্তি: ড্রোনটিতে রয়েছে অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণের সুবিধা। এমনকি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা চার্জ কমে গেলেও ‘রিটার্ন-টু-হোম’ ফিচারের মাধ্যমে এটি নিজেই নিরাপদে ফিরে আসবে।
নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান দেশীয় বহর: বর্তমানে মুম্বাই-ভিত্তিক ‘সাগর ডিফেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর তৈরি প্রায় ৬০টি জাহাজ-চালিত স্পটার ড্রোন ইতিমধ্যেই নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে, যা আইএনএস বিক্রান্ত-এর মতো যুদ্ধজাহাজে জলদস্যু-বিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত হয়। নতুন এই ড্রোনগুলো মূলত উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সমুদ্রসীমায় অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে নৌবাহিনীর এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।