ডিমের কুসুমে লাল দাগ দেখে ফেলে দিচ্ছেন? জেনে নিন এটি খাওয়া নিরাপদ কি না!

আমাদের প্রতিদিনের ডায়েটে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের অন্যতম সহজলভ্য উৎস হলো ডিম। কিন্তু প্রায়শই ডিম ভাঙার পর কুসুম বা সাদা অংশে ছোট লাল বা বাদামি রঙের রক্তের দাগ দেখা যায়। অনেকেই এই দৃশ্য দেখে ডিমটিকে নষ্ট ভেবে সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভীতি পুরোপুরি অমূলক।
কেন থাকে এই রক্তের দাগ?
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম গঠনের সময় মুরগির ডিম্বাশয় বা কুসুমের চারপাশের কোনো ক্ষুদ্র কৈশিক রক্তনালি ফেটে গেলে এই রক্তের বিন্দু তৈরি হয়। এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে ডিম নষ্ট হওয়া বা মুরগির কোনো অসুস্থতার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। অনেকেরই ধারণা, এমন দাগ থাকা মানেই ডিমটি নিষিক্ত বা তা থেকে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
ডিম কি খাওয়া নিরাপদ?
যদি কুসুমে রক্তের দাগ দেখে অস্বস্তি হয়, তবে ডিম ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার একটি চামচের সাহায্যে দাগযুক্ত অংশটি তুলে ফেলে দিয়ে বাকি ডিমটি অনায়াসেই রান্না করে খাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো ডিমই খাওয়ার আগে খুব ভালোভাবে সিদ্ধ বা ভাজা করে নেওয়া জরুরি।
কখন ডিম বর্জন করবেন?
রক্তের দাগ নিরাপদ হলেও সব ধরনের রঙের পরিবর্তন কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। যদি ডিম ভাঙার পর সাদা অংশটি অস্বাভাবিক গোলাপি, সবুজ কিংবা গাঢ় লালচে রঙের মনে হয়, তবে তা ভুলেও খাবেন না। ‘সিউডোমোনাস’ নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে এমন হতে পারে, যা মারাত্মক ফুড পয়জনিং ঘটাতে সক্ষম। এছাড়াও ডিম থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বা অতিরিক্ত পিচ্ছিল ভাব পাওয়া গেলে তা সাথে সাথে ফেলে দেওয়া উচিত।
খয়েরি বনাম সাদা ডিম:
সাধারণত খয়েরি খোসার ডিমে এমন রক্তের দাগ বেশি দেখা যায়, কারণ খোসার রঙের তীব্রতার জন্য পরীক্ষার সময় ভেতরে থাকা ছোট দাগগুলো সহজে ধরা পড়ে না। পুষ্টিগুণের দিক থেকে সাদা বা খয়েরি উভয় ডিমই সমান পুষ্টিকর।
একটি মাঝারি ডিম থেকে আমরা প্রায় ৭৭ কিলোক্যালরি শক্তি, ৮ গ্রাম প্রোটিন ও ৫.২ গ্রাম ফ্যাট পাই। এছাড়া লুটেইন, জিয়াজেনথিন, ফসফরাস ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আমাদের চোখ ভালো রাখা থেকে শুরু করে হাড়ের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তাই সচেতনতা বজায় রেখে নিশ্চিন্তে ডিম খান, সুস্থ থাকুন।