করাচিতে ৮৫০ কোটির বাস দুর্নীতি! পর্দা ফাঁস হতেই জেলে সরকারের প্রভাবশালী আমলা

সরকারি প্রকল্পের আড়ালে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে ফের উত্তাল পাকিস্তান। করাচির গুরুত্বপূর্ণ ‘বাস র্যাপিড ট্রানজিট’ (BRT) ইয়েলো লাইন প্রকল্পে ৮৫০ কোটি টাকার বিশাল কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস হয়েছে। এই দুর্নীতি মামলায় মূল অভিযুক্ত, গ্রেড-১৯ এর প্রভাবশালী আমলা তথা করাচি মোবিলিটি প্রজেক্টের (KMP) প্রাক্তন প্রজেক্ট ডিরেক্টর জামির আব্বাসিকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সিন্ধ প্রদেশের দুর্নীতি দমন আদালত।
কীভাবে ফাঁস হলো দুর্নীতি? মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন, অনুসন্ধান ও প্রয়োগকারী দলের (CMIE&ITD) একটি তদন্ত রিপোর্টের পরই এই দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, এই পরিবহন প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক নয়ছয় করা হয়েছে। মূলত, কোনো রকম ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার পেমেন্ট করা হয়েছিল, যা সরকারি কোষাগারের জন্য ছিল চূড়ান্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অভিযোগের পাহাড়: সিন্ধের অ্যান্টি-কারাপশন এস্ট্যাবলিশমেন্ট (ACE) এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামির আব্বাসি ছাড়াও তৎকালীন প্রকিউরমেন্ট ডিরেক্টর ঝামান দাস এবং আরও কয়েকজনের নাম যুক্ত করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি গুরুতর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
-
সরকারি কর্মচারী হিসেবে বিশ্বাসভঙ্গ (৪০৯)
-
জালিয়াতি ও প্রতারণা (৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮)
-
হিসাব বিকৃত করা (৪৭৭-এ)
-
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা।
আদালতের নির্দেশ: তদন্তকারী কর্মকর্তা শের জামান আদালতে জানান, মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। অভিযুক্ত জামির আব্বাসি জামিনের আর্জি জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। ১৩ জুলাই পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আগামী ১১ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে এবং আদালত নির্দেশ দিয়েছে ওইদিন ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে অভিযুক্তকে হাজির করাতে।
পাকিস্তানের মতো দেশে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা এভাবে নয়ছয় হওয়ার ঘটনা সেদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।