পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রপতি! বিচারপতি জে যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে সংসদে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি জে যশবন্ত বর্মার বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ পোড়া নোট উদ্ধারের ঘটনাটি ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি করেছে। গত এপ্রিল মাসে তিনি পদত্যাগ করলেও, রাষ্ট্রপতির তরফে সেই পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় তাঁর অপসারণের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে।
সাংসদদের স্বাক্ষর ও ইমপিচমেন্টের জল্পনা: সূত্রের খবর, আসন্ন সংসদের বাদল অধিবেশনে বিচারপতি বর্মার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান রিপোর্ট পেশ করা হতে পারে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তা বাদল অধিবেশনে আলোচনার জন্য রাখা হবে। জানা যাচ্ছে, ১৪৬ জনেরও বেশি সাংসদ বিচারপতি বর্মার অপসারণের দাবিতে নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন, যা বিচারবিভাগীয় স্বচ্ছতা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কী ছিল সেই ঘটনা? ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দিল্লির সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর দমকল কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পোড়া নোটের পাহাড় খুঁজে পান। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি রিপোর্টে জানিয়েছে যে, ওই বিশাল পরিমাণ নগদ অর্থের ওপর বিচারপতি বর্মা ও তাঁর পরিবারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ ছিল।
আইনি জটিলতা: বিচারপতি বর্মা যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও তদন্ত কমিটি তাঁর অপসারণের সুপারিশ করেছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপতি বর্মা পদত্যাগ করলেও ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রক্রিয়াটি সাংবিধানিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায়, সংসদ যদি এই বিষয়ে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বাদল অধিবেশনে এই রিপোর্ট পেশ হলে তা যে বিরোধী ও শাসকদলের মধ্যে বড় বিতর্কের জন্ম দেবে, তা নিশ্চিত। সাধারণ মানুষের কাছে বিচারব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষার বার্তা দিতে সরকার এবং সংসদ কতটা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন নজর সেদিকেই।