১ কোটির ক্যান্টিন বিল! টেন্ডার ও নিয়োগে চরম অনিয়ম, তোলপাড় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে দরপত্র প্রক্রিয়া, কর্মী নিয়োগ এবং ক্যান্টিন পরিচালনার নামে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সংসদের কয়েকজন প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক কর্মী।
প্রধান অভিযোগের ক্ষেত্রসমূহ: অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা সংসদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল নিজেদের পছন্দের লোকেদের। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে:
-
টেন্ডার দুর্নীতি: রক্ষণাবেক্ষণ, সৌন্দর্যায়ন ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু সংস্থাকে নিয়ম ভেঙে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
-
ক্যান্টিন বিল জালিয়াতি: ক্যান্টিন পরিচালনা বাবদ প্রায় এক কোটি টাকার বিল করা হয়েছে। প্রকৃত উপস্থিতির তুলনায় অনুষ্ঠানে খাবারের বরাত অনেক বেশি দেখিয়ে তছরুপ করা হয়েছে সরকারি টাকা।
-
নিয়োগে বেনিয়ম: চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যাপক স্বজনপোষণ ও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেন এই অভিযোগ? প্রাক্তন কর্মী তন্ময় মাশ্চটকের অভিযোগ, ২০০৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কাজ করার পর অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন। অভিযোগপত্রে তৎকালীন সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের নামও উঠে এসেছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সরকার পরিবর্তনের পর নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সংসদের পুরনো নথি খতিয়ে দেখছেন। এরই মধ্যে মন্ত্রীকে দেওয়া এই চিঠি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
কী বলছেন অভিযুক্ত পক্ষ? সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। তিনি জানান, তিনি কোনো অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ছিলেন না এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ নেই। তবে তিনি নিজে থেকেই শিক্ষা সংসদের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের পূর্ণাঙ্গ তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তদন্তের অপেক্ষায় সংসদ: উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী এই বিষয়ে ঠিক কী পদক্ষেপ নেন এবং নতুন সভাপতি পার্থ কর্মকারের অধীনে সংসদ কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।