অশ্লীল মন্তব্য থেকে মধ্যরাতে কোয়ার্টারে ধাক্কা: ফরিদাবাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চরম নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসকরা!

চিকিৎসা পরিষেবার কেন্দ্রস্থল হাসপাতাল, আর সেই হাসপাতালেরই নারী কর্মীরা এখন চরম আতঙ্কে। ফরিদাবাদ জেলার ধৌজ গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (পিএইচসি)-তে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সিং কর্মীদের নিরাপত্তা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। নারীদের পোশাক পরে পুরুষদের হাসপাতালে প্রবেশ এবং নিয়মিত অশালীন আচরণের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভয়ংকর অভিযোগের ফিরিস্তি: নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিবেশ এখন সমাজবিরোধীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। তাঁদের দাবি:
-
ছদ্মবেশে প্রবেশ: চিকিৎসা নেওয়ার অজুহাতে কিছু যুবক নারীদের ছদ্মবেশ ধারণ করে হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করছে।
-
অশালীন আচরণ: হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে অশালীন মন্তব্য করা, মধ্যরাতে স্টাফ কোয়ার্টারের দরজায় ধাক্কা দেওয়া এবং কর্মীদের উদ্দেশে অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে নিয়মিত।
-
মদ্যপানের আড্ডা: হাসপাতাল চত্বরেই রাতে দুষ্কৃতকারীরা মদ্যপানের আসর বসাচ্ছে, যা নারী কর্মীদের কর্মপরিবেশকে অসহনীয় করে তুলেছে।
প্রশাসনের ভূমিকা কী? দীর্ঘদিন ধরে এই অব্যবস্থা চললেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। নার্সিং স্টাফরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন ও স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার লিখিত অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মাত্র একজন নিরাপত্তা কর্মী দিনের বেলায় ডিউটি করেন, যা রাতের অন্ধকারে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এই বিষয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. যতেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “হাসপাতালের জন্য অতিরিক্ত দুজন নিরাপত্তা রক্ষী এবং একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, হাসপাতালের আশেপাশে নিয়মিত টহল বাড়ানোর জন্য স্থানীয় পুলিশকেও লিখিত অভিযোগ জানানো হচ্ছে।”
হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের ঘটনা কেবল নারী কর্মীদের জন্য অপমানজনকই নয়, বরং সাধারণ রোগীদের সুরক্ষার জন্য এক বড় হুমকি। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই এখন এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।