সন্ত্রাসবাদেই স্থবির সিন্ধু জলচুক্তি! পাকিস্তানের হুমকির কড়া জবাব ভারতের

আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ এবং পাকিস্তানের লাগাতার উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে ফের উত্তপ্ত ভারত-পাক সম্পর্ক। সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিল, সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি কোনোভাবেই স্বাভাবিক করা হবে না।
ভারতের কড়া বার্তা শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ভারতের অবস্থান আগের মতোই সুসংগত। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের ক্রমাগত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার কারণেই বর্তমানে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত বা ‘অ্যাবেয়েন্স’-এ রাখা হয়েছে। পাকিস্তানকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, তারা এই সন্ত্রাসবাদ চিরতরে ত্যাগ করেছে।” বিদেশ মন্ত্রকের এই মন্তব্যে পরিষ্কার, ভারত তার জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
কেন এই পরিস্থিতি? সম্প্রতি পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদ্দিক মালিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করে বলেন, ভারত সিন্ধু নদের জলের ওপর ‘ট্যাপ’ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং পাকিস্তানকে জল থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। পাক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে ভারত বিরোধী প্রচার চালাচ্ছেন। এর আগে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারও এই চুক্তি নিয়ে যুদ্ধের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, ভারত যদি পাকিস্তানের জল আটকে দেয়, তবে তা ‘জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের’ শামিল হবে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ ও প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই ভারত এই সিন্ধু জলচুক্তি কার্যত স্থগিত করে রেখেছে। গত কয়েক দশক ধরে এই চুক্তি ভারত-পাক কূটনীতির অন্যতম খুঁটি ছিল। তবে ভারত বারবারই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ‘সন্ত্রাস এবং আলোচনা’—এই দুই পথ কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান একদিকে অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত, অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে অপপ্রচার চালিয়ে জলকে ইস্যু করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। তবে বিদেশ মন্ত্রকের আজকের এই অবস্থান বুঝিয়ে দিল, পাকিস্তান যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের সন্ত্রাসবাদী নীতি থেকে সরে আসছে, ততক্ষণ এই গুরুত্বপূর্ণ জল চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোনো কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জলবন্টন নিয়ে ভারতের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।