‘আমি যাবই না!’ পুলিশি সমন উপেক্ষা করে শক্তিপুর থানার ওসিকে চ্যালেঞ্জ হুমায়ুন কবীরের

উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় তলব করা হলেও শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিলেন না নওদার এজেইউপি (AJUP) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। উল্টে, ওই থানার ওসির বিরুদ্ধে ‘ঔদ্ধত্য ও অভব্য আচরণের’ অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
কী বললেন বিধায়ক? মঙ্গলবারই পুলিশ বিধায়কের বাড়িতে নোটিস দিয়ে এসেছিল এবং আজ সকাল ১১টার মধ্যে তাঁকে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু হাজিরা না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি যাবই না। ওসি-র ঔদ্ধত্য এবং খারাপ আচরণের জন্যই এই সিদ্ধান্ত। তিনি আমাদের কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। একজন ওসি হয়ে এত ‘সুপ্রিম পাওয়ার’ তাঁকে কে দিয়েছে?”
তবে তিনি পুলিশি অসহযোগিতা করছেন না—এমন দাবি করে বলেন, “আগামীকাল রেজিনগর থানায় হাজিরা দেব। পুলিশ যদি কাল আমাকে গ্রেফতার করতে চায়, আমি প্রস্তুত।”
আইনি জটিলতা ও বিতর্ক: বিধায়কের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলায় জামিন অযোগ্য ধারায় জোড়া এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৭ মে শক্তিপুরের একটি কর্মিসভায় ওসি-কে আক্রমণ এবং ২৬ জুন রেজিনগরের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ রয়েছে।
এর পাশাপাশি, সম্প্রতি চন্দনপুর বিলের জলাশয় জবরদখল করে মাছ চুরির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও বিধায়কের দাবি, ওই বিলটি তাঁর লিজ নেওয়া। তবে বিপরীত দিকে খৈতান সংস্থা পুলিশকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, ওই লিজ আগেই বাতিল করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: হুমায়ুন কবীরের এই অবস্থান নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “হুমায়ুন হোক বা অন্য কেউ, সবাইকে আইনের শাসনের সামনে মাথা নত করতে হবে। এদের ঠিক হতে হবে, চিন্তার কোনো কারণ নেই।”
তদন্ত প্রক্রিয়া ও বিধায়কের এই চ্যালেঞ্জের জেরে এখন গোটা এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে জলাশয় জবরদখলের অভিযোগ এবং অন্যদিকে একের পর এক মামলায় আইনি বেড়াজাল—সব মিলিয়ে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বর্তমানে বড়সড় সংকটের মুখোমুখি।