৪০ বছরের খরা কাটিয়ে নিউজিল্যান্ডে মোদী! বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষায় নতুন দিগন্তের হাতছানি

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো-প্যাসিফিক) অঞ্চলে ভারতের প্রভাব আরও সুসংহত করতে আগামী ৬ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরে তিনি ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া—এই তিনটি দেশ ভ্রমণ করবেন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগই হবে এই সফরের মূল লক্ষ্য।
সফরসূচির মূল দিক:
-
অস্ট্রেলিয়া: মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ভারত-অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া, মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘মেলবোর্ন মিটস মোদী’ অনুষ্ঠানে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
-
নিউজিল্যান্ড: গত ৪০ বছরের মধ্যে এটি কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নিউজিল্যান্ড সফর। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর মোদীর এই সফর দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। অকল্যান্ডে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
-
ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের এই সময়ে মোদীর সফর দুই দেশের কৌশলগত বন্ধুত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কেন এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই তিনটি দেশের সাথে ভারতের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। বাণিজ্য চুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনই এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা।
ইতিমধ্যে গত কয়েক বছরে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর নিউজিল্যান্ড সফর ভারত ও ওই দেশগুলোর মধ্যে এক নতুন আস্থার সম্পর্ক তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, মোদীর এই ছয় দিনের সফর বিশ্বমঞ্চে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে কতটা শক্তিশালী করে।