কফিনবন্দি খামেনেই: দাফনের আগে কি প্রকাশ্যে আসবে বিশ্বজুড়ে আলোচিত সেই ‘শেষ মুখ’?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিশ্ব। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তাঁর মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে খামেনেইয়ের মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়েছে, তবে তাঁর শেষ বিদায় নিয়ে দানা বেঁধেছে এক গভীর রহস্য—দাফনের আগে কি বিশ্ববাসী তাঁর শেষ মুখটি দেখতে পাবে?
গোপনীয়তার বৃত্তে শেষ শ্রদ্ধা ইরানের জাতীয় পতাকা ও লাল ফুলে মোড়ানো খামেনেইয়ের কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয়েছে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী তিন দিন মরদেহ জনসাধারণের দর্শনের জন্য রাখা হবে। তবে ইরানি গণমাধ্যম বা দেশটির প্রশাসনের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করা হয়নি যে, কফিনের ঢাকনা সরিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর মুখ উন্মুক্ত করা হবে কি না। খামেনেইর মরদেহ শেষবার দেখা যাবে কি না—এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
ইতিহাসের বৃহত্তম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া? ইরানি প্রশাসনের ধারণা, খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের ঢল নামতে পারে। তেহরান ছাড়াও কোম ও মাশহাদে ব্যাপক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফসহ প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। চীন, আফগানিস্তান ও ককেশাস অঞ্চলের দেশগুলোও সক্রিয়ভাবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে এটি কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয়, বরং এক আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
শেষ গন্তব্য মাশহাদ তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনেইয়ের মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই, তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। দাফনের চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বের দৃষ্টি এখন তেহরানের দিকে। রহস্যময় এই শেষ বিদায় কি বিশ্বের কাছে উন্মোচিত হবে? উত্তর পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে দাফনের দিন পর্যন্ত।